কসমোপলিটান ইস্তাম্বুল নগরী থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মর্মর সাগরের উত্তর অংশের তীরে রয়েছে তুরস্কের বৃহত্তম বন্দর আম্বারলি। দুই অঞ্চলে বিভক্ত বন্দরটির পশ্চিম অংশে রয়েছে আম্বারলি নিউ পোর্ট, যেখানে গড়ে উঠেছে অয়েল টার্মিনাল, বেসরকারি জেনারেল, বাল্ক এবং কনটেইনার টার্মিনাল। পুবদিকে আছে অয়েল প্ল্যাটফর্ম, জেটি, মুরিং বয়া। অবাক ব্যাপার হলো, লয়েড’স লিস্টে বিশ্বের ৫৫তম ব্যস্ত বন্দরটির সাথে দেশটির হিন্টারল্যান্ডের কোনো রেল সংযোগ নেই। সকল আমদানি-রপ্তানি পণ্য মূলত সড়কপথে পরিবহন করা হয়।

দ্রুত নগরায়ণের নগরী হওয়ায় ইস্তাম্বুল ও হায়দারপাশা বন্দরের ওপর চাপ কমাতে ১৯৮৯ প্রথমবার এখানে একটি বন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। পরিচালনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ১৯৯২ সালে আম্বারলি পোর্ট ফ্যাসিলিটিজ ট্রেড কোম্পানি গঠন করে তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয়। ১৯৯৮ সালে অর্থনীতি উদারীকরণের পর দেশটিতে বাণিজ্যের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে কার্গো ভলিউম। ৪ হাজার ৫০০ বর্গমিটার ওয়্যারহাউস এবং ৩ লাখ ৭৫ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড এলাকায় ২০২০ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বার্ষিক মোট থ্রুপুট ছিল ৩১ লাখ ৪ হাজার ৮৮২ টিইইউ।

আম্বারলির প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল ১৭ হেক্টর এলাকার ওপর প্রতিষ্ঠিত মারপোর্টের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ টিইইউ, যেকোনো সময় এখানকার ইয়ার্ডে মোট সাড়ে ১২ হাজার একক কনটেইনার রাখা সম্ভব, ৩৩২টি রিফার আউটলেটও আছে এখানে। এখানকার ফ্রেইট স্টেশনের আয়তন ১০ হাজার বর্গমিটারের কিছু বেশি। মারপোর্ট টার্মিনালের ৮০০ মিটার দীর্ঘ বার্থে রোল-অন/রোল-অফ রাম্প আছে। ছয় শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, একটি মোবাইল হারবার ক্রেন, ১৭ রাবার টায়ারড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেনে সজ্জিত এ টার্মিনালের নিজস্ব টপ-লিফটার, স্প্রেডার এবং বেশকিছু টার্মিনাল ট্রাকসমৃদ্ধ মারপোর্ট টার্মিনালে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

১৭ হেক্টর আয়তনের আরেক টার্মিনাল মারপোর্ট ওয়েস্টের বার্ষিক ধারণক্ষমতাও সাড়ে ৯ লাখ টিইইউ। এখানকার বার্থের দৈর্ঘ্য ৭৬০ মিটার হলেও ড্রাফট মারপোর্টের চেয়ে বেশি, ১৬ দশমিক ৫ মিটার। ৭ হাজার ৪২৫ বর্গমিটারের কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন, ১৬০ রিফার পয়েন্টসংবলিত টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য আছে ৩টি এস-টু-এস গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৭টি মোবাইল হারবার ক্রেন, ১৮টি আরটিজি।

মারদাস মারমারা মেরিটাইম ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মালিকানাধীন এবং পরিচালিত মারদাস টার্মিনালের শুরুর দিকে কেবল ব্রেকবাল্ক কার্গো হ্যান্ডল করা হলেও ২০০২ থেকে এখানে কনটেইনারও হ্যান্ডল করা হচ্ছে। মোট ৯১০ মিটার দীর্ঘ দুটি বার্থে আছে ১২ মোবাইল হারবার ক্রেন, ৮টি ১৭-রো আউটরিচ ক্রেন, ৩টি ১৬-রো আউটরিচ ক্রেন, ৮টি আরটিজি, ৪৫০টি রিফার আউটলেট। এ টার্মিনালের বার্ষিক ধারণক্ষমতা ৬ লাখ ৫০ হাজার টিইইউ।   

আম্বারলির কুমপোর্ট টার্মিনালের ২ হাজার ৮০ মিটার দীর্ঘ বার্থে গত বছর ৮ লাখ ৪৪ হাজার টিইইউ এবং ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সাধারণ কার্গো নিয়ে অন্তত ১ হাজার ৯১৯টি ভেসেল ডকিং করেছে। ৪০ হেক্টরের এ টার্মিনালে বছরে ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন পর্যন্ত কনটেইনার হ্যান্ডল করা যায়। সাথে আছে ২ দশমিক ৫ একর কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন এবং ১ দশমিক ৭ একর ওয়্যারহাউস। কুমপোর্ট টার্মিনালের ৭, ৮ এবং ১০ নম্বর বার্থে কনটেইনার ও কার্গো-দুই ধরনের পণ্যই হ্যান্ডল করা হয়।

মারপোর্ট ইস্ট টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত বন্দরের ১, ২ এবং ৩ নম্বর পিয়ারে মূলত কনটেইনার হ্যান্ডল করা হয়। কনটেইনার এবং কার্গো দুটিই সামলানো যায় ৯ থেকে ১৫ মিটার ড্রাফটবিশিষ্ট ৪ ও ৫ নম্বর পিয়ারে।

বার্ষিক দুই মিলিয়ন টন বাল্ক কার্গো এবং দেড় মিলিয়ন টন মিশ্র পণ্য হ্যান্ডলিং ক্ষমতাসম্পন্ন ৪ একর আয়তনের আকচানসা টার্মিনালে রোল-অন/রোল-অব কার্গো উপযোগী রাম্প আছে। দুটি অল-পারপাস বার্থ, একটি সিমেন্ট ক্লিংকার বার্থও আছে এখানে। বার্থ অপারেটর হিসেবে আম্বারলি টোটাল অয়েল টার্কি টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণ করে সেট সিমেন্টো গ্রুপ। এ টার্মিনালের লিকুইড বাল্ক ক্যাপাসিটি বার্ষিক ৩ লাখ ঘনমিটার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here