ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ চুক্তির মেয়াদ ও পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানির এই উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে এ বিষয়ে রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরি করবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মিখালিও পোডোলিয়াক সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেন রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরি করতে হবে, সে বিষয়টি জাতিসংঘের মহাসচিব খুব যুক্তিসঙ্গতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যে চুক্তি হয়েছে, ইউক্রেন সেটি মেনে চলবে এবং বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ সংকট দূরীকরণে খাদ্যশস্য রপ্তানি অব্যাহত রাখবে।
এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্য সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার জন্য কেবল রুশ-ইউক্রেন সামরিক সংঘাতের ওপর দায় চাপালে চলবে না। শুধু যে বৈশ্বিক বাজারে রাশিয়া ও ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে, তা নয়। ক্রেমলিনের দাবি, চুক্তিতে রাশিয়ার শস্য রপ্তানিতে যে সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নিজেদের রপ্তানিকে সুবিধা দিতে যেসব শর্ত বেঁধে দিয়েছিল রাশিয়া, সেগুলো পূরণ না হলে ১৮ মের পর চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি অভিযোগ করে যে, কৃষ্ণ সাগরে তাদের জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে কিয়েভ। তাদের এই অপতৎপরতার কারণে মানবিক করিডোর দিয়ে শস্য রপ্তানি নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তার মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। অবশ্য পোডোলিয়াক রাশিয়ার এই অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখে রুশ সেনারা। এতে সমুদ্রপথে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত বছরের ২২ জুলাই তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় খাদ্যশস্য পরিবহনের সুযোগ দিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই চুক্তির অধীনে ১ আগস্ট প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে ২৬ হাজার টন ভুট্টা বোঝাই করে লেবাননের পথে যাত্রা করে রাজোনি নামের সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী একটি জাহাজ।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক গম সরবরাহে রাশিয়া ও ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল এই দুই দেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।