‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ প্রচারণার অংশ হিসেবে শিল্পায়নের যে নতুন উদ্যোগ, তার আওতায় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত। এই পরিকল্পনার আওতায় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি নিম্ন করহার এবং খাতটিকে অবকাঠামোর মর্যাদা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এর ফলে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ব্যাংক থেকে অর্থায়নপ্রাপ্তি সহজ হবে।
এই প্রস্তাবের মূলে রয়েছে কমপক্ষে ৫০টি নতুন জাহাজ নির্মাণে গতি আনা। দেশের উৎপাদন খাতের ওপর উচ্চজাহাজ ভাড়ার যে প্রভাব তা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাইছে ভারত সরকার। টেকসই সমাধান হিসেবে দেশের জাহাজের বহর বড় করার এই পরিকল্পনার প্রতি নীতিনির্ধারকরাও তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রণোদনার এই পরিকল্পনা ব্যাটারিচালিত ছোট জাহাজ নির্মাণকেও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের জাহাজ নির্মাণ পরিবেশবান্ধব ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তিভিত্তিক হবে বলেও পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মেরিটাইম উন্নয়ন তহবিল গঠনের আশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের সমর্থন পেয়েছে।
২০২১ সালে প্রকাশিত ভারতের মেরিটাইম রূপকল্প ২০৩০-তে দেশকে বৈশ্বিক মেরিটাইম নেতৃত্বের আসনে নিতে অত্যাবশ্যকীয় যে দশটি খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে, জাহাজ নির্মাণ শিল্প তার মধ্যে অন্যতম। জাহাজ নির্মাণকে অবকাঠামোর মর্যাদা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো কিছু পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন রূপকল্পের নথিতে আগেই সুপারিশ করেছিলেন।