এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে নতুন দুটি ২৪ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার আল্ট্রা-লার্জ কনটেইনার জাহাজ বুঝে পেয়েছে হংকংয়ের কনটেইনার শিপিং ও লজিস্টিকস সার্ভিস কোম্পানি ওরিয়েন্ট ওভারসিজ কনটেইনার লাইনস (ওওসিএল)। এছাড়া জাপানের কনটেইনার ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানি ওশান নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেসও (ওয়ান) সম্প্রতি তাদের মেগাম্যাক্স ক্লাসের প্রথম আল্ট্রা-লার্জ কনটেইনার জাহাজ বুঝে পেয়েছে।
ওওসিএল এখন পর্যন্ত ২৪ হাজার টিইইউ কনটেইনার ধারণক্ষমতার মোট ১২টি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ দিয়েছে। এই জাহাজগুলোর পরিবহন সক্ষমতা কোম্পানিটির আগের বৃহত্তম জাহাজের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি হবে।
মঙ্গলবার (৬ জুন) নিজেদের তৃতীয় আল্ট্রা-লার্জ কনটেইনার জাহাজ ওওসিএল তুর্কিয়ে বুঝে পেয়েছে ওওসিএল। ফেব্রুয়ারিতে পেয়েছিল প্রথমটি, যার নাম ওওসিএল স্পেন। এ দুটি জাহাজই নির্মাণ করেছে চীনের নানটং কসকো কেএইচআই শিপ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। এছাড়া গত সপ্তাহে ওওসিএল পাইরিউস সরবরাহ করেছে দালিয়ান কসকো কেএইচআই শিপ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। এই দুটি কোম্পানি ছয়টি করে জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে। ১ হাজার ৩১২ ফুট দীর্ঘ ও ২০১ ফুট প্রশস্ত জাহাজগুলোর প্রতিটি ২৪ হাজার ১৮৮ টিইইউ কনটেইনার পরিবহন করতে সক্ষম। এগুলোকে এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যেন সেগুলোর সুয়েজ খালে চলাচল এবং এশিয়া ও ইউরোপের বন্দরগুলোয় ভিড়তে কোনো সমস্যা না হয়।

এদিকে ওয়ান অতিসম্প্রতি তাদের মেগাম্যাক্স ক্লাসের প্রথম কনটেইনার জাহাজ বুঝে পেয়েছে। ওয়ান ইনোভেশন নামের ৪০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি নির্মাণ করেছে জাপান মেরিন ইউনাইটেড করপোরেশনের কুরে শিপইয়ার্ড। এর কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতা ২৪ হাজার ১৩৬ টিইইউ। মোট ছয়টি মেগাম্যাক্স জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ দিয়ে রেখেছে ওয়ান।
আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ায় শিপিং কোম্পানিগুলো এখন মেগা কনটেইনার জাহাজ বহরে যোগ করার দিকে ঝুঁকেছে। এসব জাহাজের নকশা ও নির্মাণের ক্ষেত্রে যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয় সেটি হলো, হালের (জাহাজের মূল কাঠামোর যে অংশ পর্যন্ত পানির উপরিতল পর্যন্ত ডুবে থাকতে পারে) আকার অন্যান্য বড় জাহাজের সমান হলেও এগুলোয় যেন তুলনামূলক বেশি সংখ্যক কনটেইনার সাজানো যায়। এজন্যই এগুলোকে আল্ট্রা-লার্জ বা মেগা কনটেইনার জাহাজ বলা হয়।
বিশ্বের বৃহত্তম কনটেইনার শিপিং কোম্পানি মেডিটারেনিয়ান শিপিং কোম্পানিও (এমএসসি) অন্তত এক ডজন মেগা কনটেইনার জাহাজের কার্যাদেশ দিয়ে রেখেছে, যার মধ্যে কয়েকটি এরই মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। দানবাকার জাহাজ বহরে যোগ করায় পথপ্রদর্শক তাইওয়ানভিত্তিক কোম্পানি এভারগ্রিন মেরিনের বহরে ২৪ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ যুক্ত হয়েছে গত বছর। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের বহরে প্রথম আল্ট্রা-লার্জ কনটেইনার জাহাজ বুঝে পাওয়ার কথা রয়েছে আরেক শীর্ষ কোম্পানি হ্যাপাগ লয়েডের।
আল্ট্রা-লার্জ কনটেইনার জাহাজগুলোর বেশিরভাগই নামানো হচ্ছে এশিয়া-ইউরোপ ট্রেড রুটে। এমএসসির জাহাজগুলোও এই রুটেই সার্ভিস দিচ্ছে।