পানামা খালে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা সীমিতকরণের নিয়ম সহসাই প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পানামা ক্যানেল অথরিটির (এসিপি) কর্তাব্যক্তিরা জানিয়েছেন, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তারা যে নিয়ম চালু করেছেন, সেটি অন্তত আরও ১০ মাস চালু থাকতে পারে।
চলমান খরায় বাধ্য হয়ে জুলাইয়ে পানামা খাল দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে কর্তৃপক্ষ। তারা নিও-প্যানাম্যাক্স কনটেইনার জাহাজের সর্বোচ্চ গভীরতার সীমা কমিয়ে ৪৪ ফুট বা ১৩ দশমিক ৪১ মিটার নির্ধারণ করে। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই প্যাসেজ দিয়ে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ৩২ টিতে নামিয়ে আনে। যেখানে সাধারণত বর্ষাকালে গড়ে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৩৬টি জাহাজ পানামা খাল অতিক্রম করে।
কর্তৃপক্ষের এই নিয়ন্ত্রণের ফলে জাহাজমালিকরা তাদের কার্গো লোড কমিয়ে ফেলতে অথবা বিলম্ব এড়াতে বিকল্প পথের খোঁজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসিপির ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ইলিয়া এসপিনো বলেছেন, খালে প্রবেশের জন্য অপেক্ষমান থাকা এড়াতে জাহাজমালিকরা অগ্রীম রিজার্ভেশন করতে পারেন। এই মুহূর্তে প্রায় ১১৫টি জাহাজ পানামা খালে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে বলে জানান তিনি।
প্রতিটি জাহাজ পানামা খালের লকগুলো অতিক্রমের সময় প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহৃত হয়। আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযোগকারী ৮০ কিলোমিটারের এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট সমুদ্র বাণিজ্যের প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়।