সমুদ্র পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে গ্রিন মিথানল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে অনেকদিন ধরে। এই জ্বালানির উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ অবকাঠামোর উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও উপযোগিতা নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে জোরেশোরে। এমন কর্মতৎপরতার মধ্যেই নতুন একটি ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং অপারেটর মায়েরস্কের সিংহভাগ মালিকানাধারী ডেনিশ শিল্পগ্রুপ এপি মোলার হোল্ডিং (এপিএমএইচ)।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা নতুন একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে, যেটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গ্রিন মিথানল উৎপাদন করবে। সম্প্রতি মিথানলচালিত বিশ্বের প্রথম কনটেইনার জাহাজের নামকরণ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।
এপিএমএইচ জানিয়েছে, নতুন কোম্পানিটির নাম সিটুএক্স। এটি মিশরের সুয়েজ খালের নিকটবর্তী একটি প্রকল্প, স্পেনের হুয়েলভাসহ বেশ কয়েকটি অবস্থানে বাণিজ্যিক মাত্রায় গ্রিন মিথানল তৈরি করবে। কোম্পানিটিতে মায়েরস্কের মালিকানা থাকবে ২০ শতাংশ।
গ্রিন মিথানল প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় কনটেইনার জাহাজের কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ ৬০ থেকে ৯৫ শতাংশ কমাতে পারে। ২০৫০ সাল নাগাদ শিপিং খাতকে নিঃসরণমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম এই সবুজ জ্বালানিটি।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিএনভির পূর্বাভাস বলছে, ২০২৮ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে মিথানলচালিত জাহাজের বহর চলতি বছরের ৩০টি থেকে বেড়ে দুই শতাধিক হতে পারে। এই সংখ্যক জাহাজের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মিথানল উৎপাদনের অবকাঠামো নির্মাণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে মায়েরস্কের সদরদপ্তরে সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম মিথানলচালিত কনটেইনার জাহাজের নামকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত জুলাইয়ে কোরীয় শিপইয়ার্ডের কাছ থেকে জাহাজটি বুঝে পায় মায়েরস্ক। ১৭২ মিটার দীর্ঘ ২ হাজার ১৩৬ টিইইউ কনটেইনার পরিবহনে সক্ষম জাহাজটির নাম রাখা হয়েছে লরা মায়েরস্ক।