Home Blog

শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ার‌ম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর মধ্যে শুদ্ধাচার চর্চায় উৎসাহ প্রদানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় শুদ্ধাচার পুরস্কার দিয়ে আসছে প্রতিবছর। চলতি অর্থবছরের শুদ্ধাচার পুরস্কারের সংস্থা প্রধান ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল । আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এম খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এমপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন সচিব মো. মোস্তফা কামাল, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অধীনস্থ সকল দপ্তর ও সংস্থা প্রধানগণ।  

রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল তাঁর গৌরবময় কর্মজীবনের বিভিন্ন স্তরে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নির্বাহী শাখায় ১ জানুয়ারি ১৯৮৮ সালে কমিশন লাভ করেন। কমিশন পাওয়ার পর তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। একজন অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার স্পেশালিস্ট অফিসার হিসেবে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে অপরিসীম অবদান রেখেছেন। তিনি কানাডা থেকে ওয়ার গেম সিমুলেশন কোর্স, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ ঢাকা থেকে নেভাল স্টাফ কোর্সে এবং ভারতের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ থেকে নেভাল স্টাফ কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিভিন্ন স্তরে স্টাফ এবং নির্দেশনামূলক দায়িত্ব পালন করেছেন। নৌসদর দপ্তর এবং এরিয়া সদর দপ্তরের স্টাফ অফিসার, পরিচালক, জুনিয়র স্টাফ কোর্স, ওয়ারফেয়ার ইন্সট্রাক্টর ইন স্কুল অফ মেরিটাইম ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ট্যাকটিকস, ডাইরেক্টিং স্টাফ এবং সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর (নৌ), ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুদানে জাতিসংঘ মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি নৌবাহিনী থেকে ওএসপি ও এনইউপি পদক লাভ করেন।

রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল এলিট ফোর্স র‍্যাবে সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অসামান্য কর্মক্ষমতার জন্য তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত হন। রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ব্যুরো (আইএবি) এবং নৌসদর দপ্তরের পরিচালক সাবমেরিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে যোগ দিয়ে বন্দরের চ্যানেল ড্রেজিংসহ উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। সর্বশেষ রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল গত ২ মে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন পূর্ব পতেঙ্গার ১০.৬৬ একর জায়গা নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন পূর্ব পতেঙ্গা মৌজার ১৪ নং খাল এলাকায় ০৭ (সাত) একর জায়গাটি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের (সাইফ পাওয়ারটেকের সিস্টার কনসার্ন) আবেদনের প্রেক্ষিতে ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড ও পিসিটির জেটি নির্মাণের কাজে ২০১৮ সালে অস্থায়ীভাবে ৬ (ছয়) মাসের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল। বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত বন্দরের ভাড়া পরিশোধ না করে দখলে রাখায় জায়গাটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। ইজারা ও জায়গার নদীমুখ ২০ (বিশ) বছর মেয়াদী (নবায়নযোগ্য) লাইসেন্স প্রদানের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র (একধাপ-দুইখাম পদ্ধতিতে) আহবান করে ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেডকে প্রচলিত সকল বিধি এবং পিপিআরের সকল নিয়ম নীতি মেনে বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করায় বন্দর কর্তৃপক্ষ চার কোটি বিয়াল্লিশ লাখ টাকা পরিশোধের চাহিদাপত্র প্রেকরে এবং বন্দরের বোর্ড সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভূমির বরাদ্দ বাতিলপূর্বক জমির দখল বন্দরের বরাবরে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বিগত ১৬ জুলাই ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করে।

ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড ৭ একর জমিতে ISPS Code অনুযায়ী একটি আর্ন্তজাতিক মানের টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ পূর্বক Details Drawing, Design এর অনুমোদন গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ যথেষ্ট ব্যয়সাধ্য বিবেচনায় চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ২ (দুই) বছর Grace Period প্রদানের জন্য বন্দরকে অনুরোধ করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে চবক বোর্ডে সার্বিক বিবেচনায় ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড বরাবরে জায়গার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ২ (দুই) বছর ভাড়া আরোপ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর আগেও বিভিন্ন জেটি/টার্মিনাল নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মেয়াদে গ্রেস পিরিয়ড প্রদান করা হয়েছিল। ২ (দুই) বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকা সত্ত্বেও ট্রান্সমেরিন লজিষ্টিকস লিমিটেড ইতিমধ্যে ১৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা গত ১৫ এপ্রিল অগ্রীম পরিশোধ করে। এ টাকা বন্দর ইতিমধ্যে সোনালী ব্যাংকে এফডিআর করেছে, যার বিপরীতে ৮.৭৫% হারে লভ্যাংশ প্রাপ্য হবে। অর্থ্যাৎ এফডিআর বাবদ বন্দর বার্ষিক ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা লভ্যাংশ প্রাপ্য হবে, যা পূর্বে ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লি: এর বার্ষিক ভাড়া ৯০ লাখ টাকার বেশী।

পরবর্তীতে ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড ইজারাকৃত জমির দক্ষিণ পাশে লাগোয়া বন্দরের মালিকানাধীন কমবেশী ৩.৬৬ একর পতিত জমি ও ৯৫ মিটার নদীমুখ আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার সুবিধার্থে তাঁদের বরাবরে বরাদ্দ প্রদানের জন্য চবক বরাবরে আবেদন করেন। আবেদনটি যাচাই বাছাই করে বোর্ড অতিরিক্ত ৩.৬৬ একর জায়গা ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড বরাবরে উন্মুক্ত দরপত্রে প্রাপ্ত Rate অনুযায়ী বরাদ্দ প্রদানের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়, যা প্রতি ৬ (ছয়) মাস পরপর নবায়ন করতে হবে। এছাড়াও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যে কোন সময় বরাদ্দ বাতিলের ক্ষমতাও সংরক্ষণ করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ১৯৯৮ এর ৬নং বিধিতে উল্লেখিত, ‘‘চবক বোর্ড সংরক্ষিত এলাকার বাহিরে যে কোন ভূ-সম্পত্তি বা স্থাপনা দরপত্র ব্যতীত ভাড়া, লাইসেন্স ফি বা অন্যান্য প্রাসংগিক শর্ত নির্ধারণপূর্বক অনধিক ৬ (ছয়) মাসের জন্য ভাড়া বা লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবে’। নীতি মেনেই এ বরাদ্দ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

১০.৬৬ একর জায়গার বিপরীতে বন্দর বার্ষিক রেভিনিউ পাবে ২২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। যেখানে ইতোপূর্বে একই জায়গার বিপরীতে বার্ষিক আয় হতো মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ফলে এটা স্পষ্ট যে, ১০.৬৬ একর জায়গার বিপরীতে প্রায় ১৮ (আঠারো) গুণ বেশী রাজস্ব আয় লাভ করছে।

এ বিষয়ে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অনুমান নির্ভর। এ ধরনের সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হলো।

নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দরের যৌথ সমীক্ষায় ড্রেজিংয়ে অভাবনীয় সাফল্য

‎চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দূরদর্শী পরিকল্পনায় ড্রেজিং কার্যক্রমে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সকলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সরাসরি হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে বন্দরের প্রধান জেটি এবং কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেলে ও বন্দর সীমার অন্যান্য চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন এক সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বন্দর যৌথ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং খাতের ব্যয় অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক সাশ্রয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

‎চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত এই ড্রেজিং কার্যক্রমে বর্তমানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করে ড্রেজিংয়ের কাজগুলোকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ায় ঠিকাদাররা অনেক বেশি দায়বদ্ধতার সাথে কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে অতীতে ড্রেজিং খাতে যে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা ছিল, তা কমানো সম্ভব হয়েছে।

‎মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বন্দরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত তদারকির ফলে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই কৌশলী উদ্যোগের ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌচ্যানেলগুলোতে প্রয়োজনীয় নাব্যতা সার্বক্ষণিক বজায় থাকছে, যার ফলে বড় আকৃতির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন অনেক বেশি নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে বন্দরে যাতায়াত করতে পারছে। এর ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌরুটে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বস্থতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

‎ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া এই বিপুল অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে। যথাযথ তদারকির ফলে ঠিকাদার-নির্ভর ড্রেজিং কার্যক্রমে এই ধরনের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শুধুমাত্র বন্দরের অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের এই প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দল

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইয়ুন জিওংয়ের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি অপারেশনাল কার্যক্রম, বাস্তবায়নাধীন লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও বে টার্মিনাল পরিদর্শন করেন এবং বন্দরের সার্বিক অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসলে সংস্থার চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য প্রকৌশল কমডোর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েল, বে টার্মিনালের প্রকল্প পরিচালক কমডোর মো. মাহফুজুর রহমান, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলা প্রমুখ।

বন্দর চেয়ারম্যান প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বন্দরের সাম্প্রতিক সাফল্যের বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের অভাবনীয় অর্জন ও সব সূচকে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে জানান।

চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড এবং বন্দরের বর্তমান প্রশাসন চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো দক্ষ, আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে বিশেষ করে মাল্টি মডেল কানেকটিভিটি এবং লজিস্টিক চেইনের বিষয়ে এডিবির সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্দরের উন্নয়নে যুগোপযোগী মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, অপারেশনাল এরিয়াতে কারিগরি সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে এডিবির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা কামনা করেন বন্দর চেয়ারম্যান।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রাম বন্দরকে বিভিন্ন সেক্টরে সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা ও ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এডিবির সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের যৌথ সহযোগিতা বাড়াতে উভয় সংস্থার প্রতিনিধিরা সহমত প্রকাশ করেন এবং একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি Let’s Build the Future of Bangladesh’s Gateway Togather উল্লেখ করে বলেন, এডিবি সর্বদা বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতে কাজ করতে আগ্রহী।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। তিনি বিগত সময়ের নানা অনিয়ম, শ্রম অসন্তোষ, বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের আধিপত্য, অগ্নিদুর্ঘটনা ও ডিজিটালাইজেশনে বাধাসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বন্দরের নানা যুগোপযোগী সংস্কার করেছেন।

ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর হ্যান্ডলিং রেকর্ড, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম হ্রাস, ডুয়েল টাইম হ্রাস, পোর্ট লিমিট বৃদ্ধি, সর্বাধিক মুনাফা অর্জন, পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, ডিজিটাইজেশন, ইউএস কোস্টগার্ড কর্তৃক আইএসপিএসের জিরো অবজারভেশন প্রভৃতি বিষয়ে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

তিনি প্রতিনিধিদলকে জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে টার্মিনাল চালু হলে বন্দরটি বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সাথে সরাসরি জাহাজ চলাচল ও প্রতিবেশী দেশের পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নৌ বাণিজ্য হাবে পরিণত হবে যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। এতে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা রেফার কনটেইনার সংরক্ষণে কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনের ব্যাপারে মার্কিন সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান।

তা ছাড়া বন্দরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ইতিবাচক ভূমিকা থাকার কারণে বন্দরে নির্বিঘ্নে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে মর্মে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান ও ভবিষ্যত পরিকল্পনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বন্দরকে আরো দক্ষ, অধুনিক ও বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশে বন্দর কেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য খালাস কাজে চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগিত কামনা করেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক ইউনিট প্রধান মাইকেল পেনাল, কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রোস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিরোজ আহমেদ, আসিফ আহমেদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক ও সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলা প্রমুখ।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে ইইউর প্রতিনিধি দল

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছে। বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে তারা বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বন্দর চেয়ারম্যান প্রতিনিধি দলকে সাম্প্রতিক হ্যান্ডলিং রেকর্ড, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম ও ডুয়েল টাইম কমে যাওয়া, পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে গ্রিন টেকনোলোজি ব্যবহার, ডিজিটাইজেশন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করেন।

এসময় বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য চ্যলেঞ্জ মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান জনবলকে আরো দক্ষ ও কারিগরী জ্ঞানে প্রশিক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশা করেন।

রাষ্ট্রদূত ইইউ এর তরফ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরকে নির্মাণ শিল্প, উন্নত দেশের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচল বাড়ানো, বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি সুবিধা প্রদানসহ চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগী অংশীদার হিসেবে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, সদস্য (অর্থ) মো. মাহবুব আলম তালুকদার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম কাউন্সিলর এডউইন কোয়েককোয়েক, প্রথম সচিব সেবাস্টিয়ান রিগার-ব্রাউন।

চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ আসর বুধবার দিনব্যাপী বন্দরের শহীদ প্রকৌশলী শামসুজ্জামান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে সকালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।

সকাল থেকেই শুরু হয় প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্ট। প্রতিযোগিতায় আকর্ষনীয় ইভেন্ট ছিল ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। এতে প্রথম হয়ে শেখ ওমর ফারুক টানা ৭ম বারের মত দ্রুততম মানব হয়েছেন। এছাড়া শেখ ওমর ফারুক ২০০ মিটার দৌড়েও প্রথম হয়েছেন। এছাড়া ১০০ মিটার স্প্রিন্টে তরুণ কুমার দ্বিতীয় ও ইমাম তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এবারের আসরে বন্দরের বিন্নি বিভাগের দুই শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। নিয়মিত ইভেন্টের পর বিকেলে ছিল ‘যেমন খুশী যেমন সাজো’র মতো আকর্ষনীয় ইভেন্ট। এতে বন্দর কর্মচারী,কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বয়সি সন্তানরা চলমান ঘটনাগুলোর আলোকে সজ্জিত হয়ে মাঠে আসেন। এছাড়া ছিল অতিথিদের রশি টানাটানি,বল নিক্ষেপ,ডার্ট ইভেন্ট।

বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর মহিলা সংঘের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আইরিন জামান বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। অন্যদের মাঝে বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, ক্রীড়া সমিতির সভাপতি বন্দরের পরিচালক ( প্রশাসন) ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সচিব আজিজুল মাওলা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে লাইভ অ্যান্টি-টেররিজম মহড়া

আইএসপিএস কোডের আওতায় লাইভ অ্যান্টি- টেররিজম মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের আয়োজনে বুধবার এ মহড়ার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল মো: জহিরুল ইসলাম।

মহড়ায় বন্দর স্থাপনার নিরাপত্তা স্তর ১, ২ ও ৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলার সমতা যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ছিল ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, যানবাহন-ভিত্তিক হুমকি, অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতি মোকাবেলা, সন্দেহজনক বস্তু ও বোমা হুমকি প্রতিক্রিয়া, নদীপথে সন্দেহজনক নৌযান আটক এবং কন্টেইনার ইয়ার্ডে আত্মগোপনকারী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান। এ মহড়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ আনসার বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে অংশগ্রহণ করে। মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কুইক রেসপন্স টিমের কার্যকারিতা এবং আইনানুগভাবে আটক ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া সফলভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে পুরোদমে এজেন্ট ডেস্ক সিস্টেম চালু

চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে সিপিএ এজেন্ট ডেস্ক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এবং মেগনেটিজম টেক লিমিটেডের মাধ্যমে রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলে ওয়েবভিত্তিক এই শিপিং এজেন্ট সফটওয়্যার প্লাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে আমদানি ও রপ্তানি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ডাটা এন্ট্রি, ডকুমেন্ট প্রস্তুতকরণ এবং ডেলিভারি অর্ডার প্রসেসিংসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যাবে। ইতোমধ্যে সিস্টেমটির পেমেন্ট গেটওয়ে ইন্টিগ্রেশনের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং এটি বর্তমানে অনলাইনে চালু রয়েছে।

এজেন্ট ডেস্ক সিস্টেমের ব্যবহারিক দিক, কার্যপ্রণালী এবং সম্ভাব্য সুফল সম্পর্কে শিপিং এজেন্টস, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স ও ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানি–রপ্তানি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ আরও সহজ, দ্রুত ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, এজেন্ট ডেস্ক সিস্টেম বাস্তবায়নের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং সার্বিকভাবে বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে। এই ডিজিটাল উদ্যোগ জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।