Home Blog

শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ার‌ম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর মধ্যে শুদ্ধাচার চর্চায় উৎসাহ প্রদানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় শুদ্ধাচার পুরস্কার দিয়ে আসছে প্রতিবছর। চলতি অর্থবছরের শুদ্ধাচার পুরস্কারের সংস্থা প্রধান ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল । আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এম খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এমপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন সচিব মো. মোস্তফা কামাল, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অধীনস্থ সকল দপ্তর ও সংস্থা প্রধানগণ।  

রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল তাঁর গৌরবময় কর্মজীবনের বিভিন্ন স্তরে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নির্বাহী শাখায় ১ জানুয়ারি ১৯৮৮ সালে কমিশন লাভ করেন। কমিশন পাওয়ার পর তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। একজন অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার স্পেশালিস্ট অফিসার হিসেবে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে অপরিসীম অবদান রেখেছেন। তিনি কানাডা থেকে ওয়ার গেম সিমুলেশন কোর্স, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ ঢাকা থেকে নেভাল স্টাফ কোর্সে এবং ভারতের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ থেকে নেভাল স্টাফ কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিভিন্ন স্তরে স্টাফ এবং নির্দেশনামূলক দায়িত্ব পালন করেছেন। নৌসদর দপ্তর এবং এরিয়া সদর দপ্তরের স্টাফ অফিসার, পরিচালক, জুনিয়র স্টাফ কোর্স, ওয়ারফেয়ার ইন্সট্রাক্টর ইন স্কুল অফ মেরিটাইম ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ট্যাকটিকস, ডাইরেক্টিং স্টাফ এবং সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর (নৌ), ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুদানে জাতিসংঘ মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি নৌবাহিনী থেকে ওএসপি ও এনইউপি পদক লাভ করেন।

রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল এলিট ফোর্স র‍্যাবে সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অসামান্য কর্মক্ষমতার জন্য তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত হন। রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ব্যুরো (আইএবি) এবং নৌসদর দপ্তরের পরিচালক সাবমেরিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে যোগ দিয়ে বন্দরের চ্যানেল ড্রেজিংসহ উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। সর্বশেষ রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল গত ২ মে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

সমুদ্রে অসীম সাহসিকতার স্বীকৃতি: মর্যাদাপূর্ণ ‘আইএমও বীরত্ব পুরস্কার’ পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) মর্যাদাপূর্ণ “অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সেপশনাল ব্রেভারি অ্যাট সি-২০২৬” (সমুদ্রে অসাধারণ বীরত্বের জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার)-এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুতে কর্ণফুলী চ্যানেলে নিজের জীবন বাজি রেখে একটি বড় ধরনের শিল্প ও পরিবেশগত মহাবিপর্যয় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সফলভাবে মোকাবেলা করায় তাকে এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।

গত ২০ জানুয়ারি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ। ৫১৫ মেট্রিক টন প্রোপেন এবং ৪,৫৭০ মেট্রিক টন বিউটেন গ্যাস বোঝাই ১৫৯.৯ মিটার দীর্ঘ লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজি পরিবাহী জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’ (Gas Harmony) কে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে ভেড়ানোর (বার্থিং) কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়া বিশাল জাহাজটির ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়। প্রবল স্রোতের টানে মুহূর্তের মধ্যে জাহাজটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। ধেয়ে আসছিল এক মহাবিপর্যয়। ইঞ্জিনের শক্তি হারিয়ে নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজটি দ্রুতগতিতে পার্শ্ববর্তী কাফকো (KAFCO) অ্যামোনিয়া জেটির দিকে ধেয়ে যেতে থাকে। অত্যন্ত দাহ্য ও বিস্ফোরক পদার্থ বোঝাই এই জাহাজের সাথে জেটির সংঘর্ষ হলে একটি ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। এর ফলে চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক প্রাণহানি, বন্দর অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি এবং দেশের প্রধান এই সামুদ্রিক প্রবেশপথ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জাতীয় বিপর্যয় নেমে আসতে পারত।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ক্যাপ্টেন আসিফের হাতে সময় ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। এই চরম সংকট মুহূর্তে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি অসীম সাহস ও নিখুঁত পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন। তিনি জাহাজটির গতি রোধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নোঙর (Anchor) ফেলার নির্দেশ দেন। একই সাথে বন্দরের ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (VTMS)-এর মাধ্যমে উদ্ধারকারী টাগবোটগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে জাহাজটিকে বিপরীত দিকে টেনে ধরার দিক-নির্দেশনা দেন।
তার এই দূরদর্শী ও নিখুঁত কৌশলের কারণে গতিশীল ও নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজটির গতি থমকে দাঁড়ায়। নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গিয়ে ‘গ্যাস হারমোনি’ জেটি কাঠামো থেকে মাত্র ১.২ মিটার দূরত্বে এসে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে থেমে যায়।

বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতের সর্বোচ্চ সম্মাননা
ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের এই অনন্য সাধারণ মেধা, দৃঢ় মনোবল ও বীরত্ব ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। ‘গ্যাস হারমোনি’ জাহাজের ক্যাপ্টেন ও মালিক পক্ষ থেকেও তাকে আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে।

আইএমও (IMO) অসাধারণ বীরত্ব পুরস্কার হলো বৈশ্বিক সামুদ্রিক সেক্টরের সর্বোচ্চ সম্মাননা। সমুদ্রে নিজের জীবন বাজি রেখে বড় ধরনের বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা রোধে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিকভাবে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ক্যাপ্টেন আসিফের এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দর তথা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করল।

সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বন্দরে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সাইবার হামলার হুমকি থেকে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষা, অনলাইন লেনদেন সুরক্ষিত এবং সংবেদনশীল অপারেশনাল ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে অত্যাধুনিক ‘সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গতকাল রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আধুনিক ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্যবৃন্দ, প্রকল্প পরিচালক, বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ এবং এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে জড়িত কারিগরি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনকালে জানানো হয়: বর্তমান উচ্চ আন্তঃসংযুক্ত মেরিটাইম পরিবেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্বয়ংক্রিয় লজিস্টিকস, ইন্টারনেট-ভিত্তিক পরিষেবা এবং আর্থিক প্রযুক্তির ওপর বন্দরের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর যেমন নতুন সুযোগ এনেছে, তেমনি জটিল সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিষয়টি বিবেচনা করেই চট্টগ্রাম বন্দর একটি শক্তিশালী ও প্রতিরোধমূলক সাইবার অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে, গত ১১ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্বারা পরিচালিত বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’-এর সাথে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ।

নতুন সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল সক্ষমতাগুলো:

প্রো-অ্যাকটিভ থ্রেট ডিটেকশন: সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক দুর্বলতা এবং অসঙ্গতিগুলো দ্রুত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ডেটা কনফিডেন্সিয়ালিটি কন্ট্রোল: কঠোর প্রিভিলেজ প্রোটোকল প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করবে যে সংবেদনশীল ও শ্রেণীবদ্ধ অপারেশনাল তথ্য কেবল অনুমোদিত কর্মীরাই অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

সিস্টেম ফেইলিওর রিস্ক মিটিগেশন: ক্ষতিকারক ভাইরাস এবং ম্যালওয়ারের কারণে অপারেশনাল ব্যাঘাত, পরিষেবার ডাউনটাইম বা সিস্টেম লকআউটের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

রিয়েল-টাইম সাইবার ইন্টেলিজেন্স: উদীয়মান এবং জিরো-ডে (Zero-day) সাইবার হুমকি সংক্রান্ত ডেটা তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

অ্যান্টি-ডিডিওএস (Anti-DDoS) ক্যাপাবিলিটিস: কৃত্রিম ট্রাফিক ওভারলোডের মাধ্যমে সরকারি ও বাণিজ্যিক বন্দর পরিষেবা অচল করার যেকোনো ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল-অফ-সার্ভিস (DDoS) আক্রমণ প্রতিরোধ করবে।

নেটওয়ার্ক সারভেইল্যান্স: সন্দেহজনক বা অননুমোদিত অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক নেটওয়ার্ক আচরণ ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ ও চিহ্নিত করবে।

ফরেনসিক আর্কাইভিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস: সমস্ত ইন্টারসেপ্টেড ভাইরাস, হুমকির উৎস এবং আক্রমণের প্রচেষ্টার ডিজিটাল রেকর্ড বজায় রাখবে, যা দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত ও বিশ্লেষণে সহায়তা করবে।

২৪/৭ সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (NOC/SOC): সার্বক্ষণিক সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টারের মাধ্যমে যেকোনো স্থানীয় নিরাপত্তা ঘটনার নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক প্রশমন নিশ্চিত করা হবে।

এই উন্নত সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেমের সংযোজন দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর সুবিধা নিরাপত্তা (ISPS) কোডের শর্তাবলী পূরণের পাশাপাশি বন্দরের নিরবচ্ছিন্ন ২৪/৭ টার্মিনাল অপারেশন নিশ্চিত করবে। এর ফলে বন্দর ব্যবহারকারী, অংশীজন এবং আন্তর্জাতিক শিপিং পার্টনাররা একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশের সুবিধা পাবেন। সাইবার ডোমেইনকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর বৈশ্বিক মঞ্চে একটি বিশ্বমানের লজিস্টিক হাব হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর চ্যানেল: নিরাপদ জাহাজ চলাচলে শুরু হলো ড্রেজিং

দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্র বন্দর মাতারবাড়ীর চ্যানেলে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) এর তত্ত্বাবধানে একটি অত্যাধুনিক ড্রেজার দিয়ে এই পলি অপসারণের কাজ চালানো হচ্ছে।

বর্তমানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর চ্যানেল ব্যবহার করে নিয়মিত কয়লাবাহী জাহাজ চলাচল করছে। অদূর ভবিষ্যতে এখানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বহনকারী বড় জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত পলি জমার কারণে চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা (গভীরতা) হ্রাস পেয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এই ড্রেজিং কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

মাতারবাড়ী চ্যানেলের বর্তমান মরফোলজিক্যাল (ভৌগোলিক গঠন) অবস্থা এবং পলি জমার ধরন নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই চ্যানেলের জন্য ট্রেইলিং সাকশন হপার ড্রেজার (TSHD) সবচেয়ে উপযোগী ও কার্যকর।

এরই ধারাবাহিকতায়, চীনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন শক্তিশালী ড্রেজার ‘TSHD King Copper’-কে এই কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। ড্রেজারটি ইতোমধ্যে চ্যানেলের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা পলি অপসারণ করে নির্ধারিত গভীরতা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করে দিয়েছে।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য, সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অবকাঠামো।

চ্যানেলের নির্ধারিত নাব্যতা বজায় থাকলে বৃহৎ আকারের বাণিজ্যিক, কয়লা ও এলএনজিHeader জাহাজ কোনো রকম ঝুঁকি ছাড়াই বন্দরে ভিড়তে পারবে।

বড় জাহাজের নিরাপদ আগমন দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখবে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

সকল অংশীজনের (Stakeholders) সহযোগিতা নিয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। দেশের সমুদ্র বন্দর ব্যবস্থার দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চবক সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্মার্ট পোর্টে রূপান্তর: চট্টগ্রাম বন্দরে চালু হলো শতভাগ অনলাইন রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর সেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং ব্যবহারবান্ধব করার লক্ষ্যে রাজস্ব আদায় (রেভিনিউ কালেকশন) কার্যক্রমে সম্পূর্ণ অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এখন থেকে বন্দরের বিভিন্ন ফি, চার্জ, বিল এবং অন্যান্য রাজস্ব পরিশোধের জন্য ব্যবহারকারীরা সশরীরে উপস্থিত না হয়েই ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন। এই ব্যবস্থার আওতায় আরটিজিএস (RTGS), এনপিএসবি (NPSB), বিইএফটিএন (BEFTN), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট এবং বিকাশ-রকেটের মতো জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহার করা যাবে। বন্দরের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন যুগের সূচনা করল।

এই ডিজিটাল রেভিনিউ কালেকশন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় বন্দর ব্যবহারকারীরা চব্বিশ ঘণ্টা (২৪/৭) বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিল ও রাজস্ব পরিশোধ করতে পারবেন। এর ফলে ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর বিড়ম্বনা এবং কাগজের ফাইল জটলা থেকে মুক্তি মিলবে। এই ব্যবস্থা কাগজবিহীন আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক ত্রুটি ও দুর্নীতির সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করবে। বন্দরের হিসাব সংরক্ষণ ও রিপোর্টিং কার্যক্রম আরও নির্ভুল ও দ্রুত হবে, এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাৎক্ষণিক বিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্য খালাস এবং জাহাজ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে, যা বন্দরে জাহাজের অবস্থানকাল বা ‘টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম’ কমিয়ে আনবে। ব্যাংকে সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন না থাকায় আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং শিপিং এজেন্টদের সময়, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে, যা সরাসরি ‘সহজে ব্যবসা পরিচালনা’ (Ease of Doing Business) সূচক উন্নত করবে। ২৪/৭ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন সুবিধা দেশের আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সচল করবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন ব্যবস্থা বন্দরের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তুলবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ সকল অংশীজনকে এই নতুন অনলাইন সেবা গ্রহণ করে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে কেনিয়ার প্রতিনিধিদল

কেনিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ, কেনিয়ার স্পেশাল ইকোনমিক জোন অথরিটি এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি ও কারিগরি পরামর্শদাতাদের একটি প্রতিনিধিদল ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। প্রতিনিধিদলটিকে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পর্ষদ সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ।


আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সময় কেনিয়ার প্রতিনিধিদলকে চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন: ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং, আইএসপিএস জিরো অবজারভেশন এবং জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জনসহ প্রভৃতি উন্নয়ন তুলে ধরেন। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী সামুদ্রিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে লজিস্টিকস উন্নত করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক জ্ঞান বিনিময় এবং শিল্পাঞ্চলের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সফলতার বিষয়ে আলোচনা হয়।


সদস্য (হারবার ও মেরিন) এর সাথে বৈঠকের পর প্রতিনিধিদল সেভাকক্ষে একটি ব্রিফিং সেশনে অংশগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা, চলমান প্রকল্পসমূহ, ডিজিটাইজেশন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে কেনীয় প্রতিনিধি দল মোম্বাসা বন্দর এবং মোম্বাসা স্পেশাল ইকোনমিক জোন ডঙ্গো কুন্ডুর উন্নয়নের একটি বিস্তারিত রূপরেখা সম্পর্কে অবহিত করেন।


পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন কেনিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন উইলিয়াম কে রুটো আফনি, কেনিয়া স্পেশাল ইকোনোমিক জোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেন্নেত চিলুলি এবং কেনিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ, কেনিয়া স্পেশাল ইকোনোমিক জোন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো অপারেশন এজেন্সি (জাইকা), কারিগরি পরামর্শদাতা ও চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন), পরিচালক (নিরাপত্তা) সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

চট্টগ্রাম বন্দরে ৫ দিনব্যাপী সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কেবল সামুদ্রিক সচেতনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেই চায় না, বরং এতে সেরা সাফল্য অর্জন করতে চায় বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।

রোববার (১২ এপ্রিল) শহীদ ফজলুর রহমান মুন্সি অডিটোরিয়ামে EU CRIMARIO Project এর আওতায় MARCO3 Fundamentals Course উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা (IORIS প্ল্যাটফর্ম) ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময় এবং সমন্বয় বাড়ানো। EU CRIMARIO Project কর্তৃক ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ফোকাল সংস্থা হিসেবে নির্বাচিত করেছে।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের বেশি বৈদেশিক বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তাই চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই আয়োজন একটি দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।

ইইউর CRIMARIO II প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ কোর্সটি পরিচালনা করছেন দক্ষিণ এশিয়া ও তানজানিয়ার প্রতিনিধি বিয়র্ন বেইরেন্স। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণার্থীরা এ কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।

পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা মূলত সামুদ্রিক সচেতনতার মৌলিক ধারণা এবং আইএমও কোডসমূহ, IORIS প্ল্যাটফর্মে ‘ফাইভ ডব্লিউ’ ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে রিপোর্টিং তৈরি, সংস্থাগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক বার্তা এবং সতর্কতা আদান-প্রদান, এআইএস এবং স্কাইলাইট ডেটা লেয়ারের ব্যবহারিক প্রয়োগসহ নানা বিষয়ে জ্ঞান লাভ করবে। এই কোর্স সফলভাবে সম্পন্নকারী অংশগ্রহণকারীরা EU CRIMARIO সনদ পাবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই আয়োজনের জন্য ইন্টারনেট, কম্পিউটার এবং প্রয়োজনীয় সব কারিগরি সুবিধা দিচ্ছে।

কোর্সটির সার্বিক সমন্বয় করছেন বন্দরের পর্ষদ সদস্য (হারবার ও মেরিন) ও IORIS ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ এবং চবক এর IORIS Cell এর OIC সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ।

২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে বহির্নোঙরে এলো ‘সেন্ট্রাল স্টার’

প্রতিকী ছবি

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তত্ত্বাবধানে মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টোর’। মার্শাল আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী ১৮৩ দশমিক ৬ মিটার লম্বার জাহাজটি বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটায় বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরের দিকে জাহাজটি বন্দরের অভিজ্ঞ পাইলটের তত্ত্বাবধানে এবং শক্তিশালী টাগ বোটের সহায়তায় বন্দরের ৫ নম্বর ডলফিন জেটিতে আনা হবে।

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজের বার্থিংকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে বেশকিছু জাহাজের তেল, গ্যাস খালাস হয়েছে। পাইপলাইনে আরও বেশ কিছু জাহাজ রয়েছে।

কনটেইনার পাচারের চেষ্টা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবোঝাই একটি আস্ত কনটেইনার পাচারের বড় ধরনের এক অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার ভোরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) থেকে কনটেইনারটি কৌশলে বের করে নেওয়া হয়। এরপর দিনভর অভিযান শেষে রাতে সেটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ। এরই মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ভোরে এনসিটি ব্যাকআপ ইয়ার্ড থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পণ্যবোঝাই কনটেইনারটি ট্রেলারে করে বের করে নিয়ে যায়। পাচারকারীরা ভুয়া অন-চেসিস অনুমতিপত্র, জালিয়াতি করা চালান কপি ও ভুয়া গেটপাস ব্যবহার করেছিল। পরবর্তী সময়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে তাত্ক্ষণিক অভিযানে নামে বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। দিবসটি উপলক্ষে ২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের পরপরই চবকের প্রধান দপ্তর, ওয়ার্কশপ, আবাসিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সংঘ এবং বন্দরে অবস্থানরত জাহাজ ও জলযানগুলোয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পরে চবক সদস্য (হারবার ও মেরিন) ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহসহ অন্যান্য বোর্ড সদস্যদের নিয়ে বন্দর রিপাবলিক ক্লাব প্রাঙ্গণে শহীদ স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, গার্ড অব অনার গ্রহণ ও শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় চবকের বিভাগীয় ও উপবিভাগীয় প্রধানরা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বন্দর থানা কমান্ডের নেতারা, বন্দরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।