দেশের বেসরকারি কনটেইনার ডিপোয় রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনারের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নিয়মিত পথের পাশাপাশি বিকল্প পথে বেড়েছে পণ্য রপ্তানি। ১৪ জুলাই চট্টগ্রামের ১৯টি ডিপোয় রপ্তানি পণ্যবোঝাই কনটেইনারের সংখ্যা ১৫ হাজার ৮০১ এককে উন্নীত হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রচলিত পথের পাশাপাশি ছোট ছোট বিকল্প পথে পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন শিপিং এজেন্টরা। বিকল্প হিসেবে তারা চট্টগ্রাম থেকে ভারতের কৃষ্ণপত্তনাম বন্দর দিয়ে ইউরোপে পণ্য রপ্তানির পথ বেছে নিয়েছেন। এই নৌপথে চট্টগ্রাম থেকে হলদিয়া, কৃষ্ণপত্তনাম ও চেন্নাই হয়ে পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে কৃষ্ণপত্তনাম নৌপথে শ্রেয়াস শিপিংয়ের কনটেইনার পণ্য আনা-নেওয়ার জাহাজ পরিষেবা চালু রয়েছে।
রপ্তানি পণ্য প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে ফিডার জাহাজে এসব বন্দর হয়ে কৃষ্ণপত্তনাম বন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ইউরোপগামী বড় জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। একইভাবে কৃষ্ণপত্তনাম বন্দর হয়ে আমদানি পণ্য চট্টগ্রামেও আনা হয়। ইউরোপ ছাড়াও ভারতগামী রপ্তানি পণ্যও পরিবহন হয় এই নৌপথে, যেগুলো আগে কলম্বো হয়ে যেত।
বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয় মূলত সিঙ্গাপুর ও শ্রীলংকার দুটি এবং মালয়েশিয়ার দুটি বন্দর দিয়ে। প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে এই চার বন্দরে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে বড় জাহাজে সেসব কনটেইনার যায় ইউরোপ-আমেরিকায়। সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে কনটেইনার জটের পর থেকে বিকল্প পথ দিয়ে পণ্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়ছে। ৯ জুলাই এ নৌপথে ‘এসএসএল কচি’ নামের জাহাজটি ৫১৫ একক রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার নিয়ে বন্দর ছেড়ে গেছে। এর আগে জুন মাসে তিনটি জাহাজে এ নৌপথে ১ হাজার ১৭৯ একক কনটেইনার রপ্তানি হয়েছে। এর আগে মে মাসে ৩১৮ একক, এপ্রিলে ৪৫৩ একক, মার্চে ৪৮৫ একক কনটেইনারবাহী পণ্য রপ্তানি হয়। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ একক কনটেইনারবাহী পণ্য রপ্তানির তুলনায় এ সংখ্যা খুবই কম। তবু সংকটের সময় এ ধরনের বিকল্প পথে কিছু কনটেইনার রপ্তানি হলে চাপ কমবে বলে মনে করছেন শিপিং এজেন্টরা। আর এই নৌপথে জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো গেলে সংকট মোকাবিলায় তা সহায়তা করবে।