নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিশ্বজুড়ে অফশোর উইন্ড বা গভীর সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে কলেবর। টার্বাইনের আকার বড় হচ্ছে। সাগরের আরও গভীরে যাচ্ছে সাইটগুলো। ফাউন্ডেশনের আকারও দিন দিন বড় হচ্ছে। মোট কথা, এতদিন যেসব অফশোর উইন্ড প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে, নতুন প্রকল্পগুলো তার চেয়ে অনেক বড় পরিসরের হতে যাচ্ছে।

উইন্ড ফার্মগুলোর কলেবর বাড়ার অর্থ এগুলো স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও বেড়ে যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে উইন্ড টার্বাইন ইনস্টলেশন ভেসেলের (ডব্লিউটিআইভি) যে আন্তর্জাতিক বহর রয়েছে, তার প্রায় পুরোটাই ২০২৫ সাল নাগাদ প্রযুক্তিগতভাবে অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাহলে নতুন যেসব প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন হবে কীভাবে? তার জন্য নতুন ভেসেল তৈরি করতে হবে এবং বিদ্যমান জাহাজগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ধিত চাহিদা পূরণে এ ধরনের ৬০টির বেশি ভেসেলের প্রয়োজন হবে, যা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান, জাহাজ নির্মাতা, কনভারশন ইয়ার্ড, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী, সেবাপ্রদানকারী ও সমুদ্রসম্পদ খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্ভাবনাময় বাজার তৈরি করেছে।

ওয়ার্ল্ড এনার্জি রিপোর্টস কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ ‘ইন্টারন্যাশনাল উইন্ড টার্বাইন অ্যান্ড ফাউন্ডেশন ইনস্টলেশন ভেসেল মার্কেট’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গভীর সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে চীন তুলনামূলক ব্যস্ত বাজার। দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনেক বেশি। চীনা ডব্লিউটিআইভিগুলো এ চাহিদার সবটা হয়তো পূরণ করতে পারবে না। তবে সেক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে অন্যান্য দেশের ছোট ইনস্টলেশন ভেসেলগুলোকে চীনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যেতেও পারে। আর স্বাভাবিকভাবেই চীনা ডব্লিউটিআইভিগুলোর দেশটির বাইরে কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা খুব কম।

এতদিন উইন্ড ফার্মগুলোর ইনস্টলেশন চাহিদার বেশির ভাগ পূরণ করে এসেছে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ফিল্ডগুলোর জন্য নকশাকৃত ডব্লিউটিআইভি ও হেভি লিফটগুলো। তবে এখন সময় এসেছে এই খাতের জন্য উপযোগী উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভেসেল ও হেভি লিফট নির্মাণের।

১৯৯১ সালে ডেনমার্কে প্রথম গভীর সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে ৫ মেগাওয়াট ভিন্ডবি উইন্ডফার্মের যাত্রা হয়। এতে প্রতিটি ৪৫০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ১১টি টার্বাইন স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের ১৮ দেশে স্থাপিত অফশোর উইন্ড ফার্মগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা ৩২ গিগাওয়াটের বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here