বর্তমানে সমুদ্র পরিবহন খাতের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাহাজজট, পোর্টকলে বিলম্ব এবং সর্বোপরি সাপ্লাই চেইনে বিপর্যয়। বিশ্ববাণিজ্যের গতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এসব সমস্যা থেকে উত্তরণ খুবই জরুরি। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, সহসাই এই উত্তরণের সম্ভাবনা নেই। খোদ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এমনটি মনে করছেন। শিপিং কোম্পানি ও বন্দর কর্তৃপক্ষগুলো বলছে, পণ্য পরিবহনের যে চাপ বর্তমানে রয়েছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর অর্থ হলো, চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পরিবহন সক্ষমতার ঘাটতি এখনই শেষ হচ্ছে না।
সমুদ্রবাণিজ্যের যে দুটি রুটে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিলম্ব হচ্ছে, সেগুলো হলো চীন-ইইউ ও চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল রুট। এর মধ্যে প্রথমটিতে শিডিউল বিপর্যয় সবচেয়ে বেশি। প্রজেক্ট ফরটি ফোরের কনটেইনার ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, এই রুটে কিছু ক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে ৩০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বন্দরের কার্যক্রম শেষ করতে। চীন-যুক্তরাষ্ট্র রুটে গড়ে বিলম্ব হচ্ছে ২২ দিন। সাপ্লাই চেইন ডেটা প্লাটফর্মটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হলিডে মৌসুমের পর চাহিদায় বড় ধরনের কোনো ধস না নামলে শিপিং খাতে শিডিউল বিপর্যয়ের এই সমস্যার আশু কোনো সমাধান মিলবে না। আগামী কয়েক বছর এই স্থবিরতা চলতে থাকবে।’
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানি মায়েরস্ক এক পূর্বাভাসে বলেছে, চলতি বছরের পুরোটা সময়ে কনটেইনারের চাহিদায় প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বিশ্বের প্রায় সব ক্যারিয়ারকেই এই বাড়তি চাহিদার চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে মায়েরস্ক এরই মধ্যে কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পোর্ট কলের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া এর অন্যতম।
এদিকে বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিল (বিমকো) বলছে, নভেল করোনাভাইরাসের টিকা বণ্টনে অসমতার কারণে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। এই বিষয়টি সাপ্লাই চেইনের বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে যেসব দেশ টিকা প্রদানে এগিয়ে রয়েছে, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। বিমকোর মতে, বিশ্বায়নে এই যুগে কেউই একা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারবে না, যতক্ষণ না সবাই স্বাভাবিকতায় ফিরতে পারছে।
সংস্থাটি বলেছে, গত বছরের মতো চলতি বছরটাও বৈশ্বিক অয়েল ট্যাংকার বাজারের জন্য খারাপ যাবে। করোনা মহামারি, সাপ্লাই চেইনে বিপর্যয়, জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে দেওয়া ইত্যাদি কারণে এবারও ট্যাংকার কোম্পানিগুলোর আয় কম হবে বলে জানিয়েছে বিমকো।