এমইপিসির ৭৮তম অধিবেশন শুরু, গুরুত্ব পাবে কার্বন শুল্ক

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মেরিন এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন কমিটির (এমইপিসি) ৭৮তম অধিবেশন আজ সোমবার (৬ জুন) শুরু হয়েছে। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আয়োজিত এই বৈঠক চলবে ১০ জুন পর্যন্ত। এবারের বৈঠকে যে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে, সেটি হলো নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগকে গতিশীল করতে কার্বন শুল্ক আরোপ।

আইএমওর বর্তমান লক্ষ্যমাত্রায় ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে অর্জিত হবে, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি সংস্থাটি। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে ফুয়েল-এফিশিয়েন্সি রিপোর্টিং মেকানিজম বাস্তবায়ন করেছে তারা।

আইএমওর নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার গতি বেশ ধীর। এ অবস্থায় উদ্যোগটির পালে হাওয়া দিতে কার্বন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ ও সংগঠন। এমইপিসির এবারের বৈঠকে সেসব প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।

আইএমওর কাছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অংকের শুল্ক আরোপের প্রস্তাব এসেছে জাপানের পক্ষ থেকে। দেশটি ২০২৫ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে শিপিং খাতে প্রতি টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণের বিপরীতে ৫৬ ডলার, ২০৩০ সাল থেকে টনপ্রতি ১৩৫ ডলার, ২০৩৫ সাল থেকে ৩২৪ ডলার ও ২০৪০ সাল থেকে ৬৭৩ ডলার হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। যেহেতু প্রতি টন বাংকার ফুয়েল প্রায় তিন টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ করে, সেহেতু প্রতি টন বাংকার ফুয়েলের ক্ষেত্রে শুল্কের পরিমাণ উল্লিখিত অংকের তিনগুণ হবে।

প্রথাগত জ্বালানির চেয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহার বেশি ব্যয়সাপেক্ষ। এ কারণে অনেকেই জ্বালানি রূপান্তরের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এই অবস্থায় কার্বন শুল্ক আরোপ করা হলে তা ব্যয় প্রতিযোগিতার অসামঞ্জস্যতা ঘুচিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক আহরণ করে যে তহবিল তৈরি হবে, তা থেকে সবুজ জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে পরোক্ষভাবে জীবাষ্ম জ্বালানির খরচ বেড়ে যাবে, আর পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে ব্যয় কমবে। এতে জাহাজগুলো সবুজ জ্বালানি ব্যবহারে আরও বেশি উৎসাহিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here