ফিরতি ট্রেনে ভারতে পণ্য রপ্তানির সুযোগ

কনটেইনারবাহী ট্রেন। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত

আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ভারতের কনটেইনার ট্রেন বাংলাদেশে পণ্য খালাস করে খালি ফিরে যায়। ওই খালি ট্রেনের ভাড়াও ব্যবসায়ীদের মেটাতে হয়। ফলে পণ্যের ব্যয় বাড়ে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে খালি ফিরে যাওয়া ট্রেনে পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের শুল্কায়ন বিভাগের সম্মতিতে ওই সব ট্রেনে পণ্য রপ্তানির দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে শিগগিরই। এ তথ্য দিয়েছে প্রথম আলো।

প্রতিবেদনে বলায় হয়েছে, ভারত থেকে আসা ট্রেনের ফিরতি যাত্রায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এত দিন ভারত থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা কনটেইনার ট্রেন খালি ফিরে গেলেও আসা-যাওয়ার খরচ বহন করতে হতো ব্যবসায়ীদের। প্রতি ৫০ কিলোমিটারের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করে ভাড়া গুনতে হয়। এখন ফিরতি যাত্রায় রপ্তানি পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তুলনামূলক কম খরচে পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন রপ্তানিকারকেরা।

এ কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বুধবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার কথা রয়েছে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কর্মকর্তাদের। বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার আবদুল হাকিম বলেন, সম্প্রতি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রেনে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে এনবিআর। পণ্য ওঠানো-নামানো ও শুল্কায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারীদের নিয়ে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মো. তারেক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এ–সংক্রান্ত চিঠি গত ১১ সেপ্টেম্বর বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের কাছে পৌঁছায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, ভারত থেকে আগত পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে পণ্য খালাসের পরে ওই একই ট্রেনে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত ১৩তম যৌথ শুল্ক দলের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেন্ট্রাল বর্ডার অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স অ্যান্ড কাস্টমস ওই ফিরতি ট্রেনে বেনাপোল-পেট্রাপোল ও গেদে-দর্শনা পথে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে কম খরচে রেলপথ ব্যবহার করে ভারতে পণ্য রপ্তানি করা যাবে।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চার ধরনের ট্রেনে করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—এনএমজি র‌্যাক, বিসিএন ওয়াগান, কনটেইনার ও পার্সেল ট্রেন। গত জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৮টি ট্রেনে করে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য বাংলাদেশে এসেছে। এর মধ্যে শুধু কনটেইনার ট্রেন ভারতে খালি ফিরে যাওয়ার সময় ভাড়া নেওয়া হয়। গত ১০ মাসে ৫৯টি কনটেইনার ট্রেন বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

ভারত থেকে আসা কনটেইনার ট্রেনে ২০ ফুট লম্বা ৬০টি অথবা ৪০ ফুট লম্বা ৩০টি করে কনটেইনার থাকে। ন্যূনতম ৫০ কিলোমিটার রেলপথ অতিক্রমের জন্য ৪০ ফুটের কনটেইনারে পণ্যসহ ভাড়া ১২ হাজার ৪৮০ টাকা ও খালি কনটেইনারের ভাড়া ৯ হাজার ১৫০ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here