Home Blog Page 2

মেডলগের ব্যবস্থাপনায় পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু

নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার চলাচল বৃদ্ধি এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। এটি দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (পিআইসিটি) সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে দক্ষ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লাভজনক ও কার্যকর করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ও কনটেইনার টার্মিনালসমূহেও বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণে মেডলগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, ২২ বছরের এই কনসেশন চুক্তির মাধ্যমে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালে পণ্য আনা–নেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের এই সম্মিলিত প্রয়াস নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. টি. এম. আনিসুল মিল্লাত। তিনি মেডলগ ব্যবস্থাপনার অধীনে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালের ভিশন, আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ও পরিচালনাগত রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালটি গত এক দশক ধরে লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় সরকার দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় এর কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত নভেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত ২২ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণের দায়িত্ব পেয়েছে মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড।

চট্টগ্রাম বন্দরে ৫জি নেটওয়ার্কের উদ্বোধন

চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল কার্যক্রম আরও গতিশীল, নিরাপদ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সর্বাধুনিক ৫জি নেটওয়ার্কের উদ্বোধন করা হয়েছে। এক্সেনটেক পিএলসি এ নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড রুমে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে ৫জি নেটওয়ার্কের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েল, পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক, সিস্টেম অ্যানালিস্ট একরাম চৌধুরী ও সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলা এবং এক্সেনটেকেরে সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আদিল হোসেন নোবেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ৫জি নতুন মাইলফলক।

৫জি নেটওয়ার্ক চালু হওয়ায় বন্দরের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, তথ্য আদান-প্রদান, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ স্মার্ট পোর্ট বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে ৫জি নেটওয়ার্ক চালুর মাধ্যমে বন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও অনেক বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেম স্থাপনে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর চট্টগ্রাম বন্দর টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম, ডিজিটাল গেট পাস সিস্টেম, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমসহ অটোমেশন কার্যক্রম নিরাপদ রাখতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেম স্থাপনের লক্ষ্যে চবক বোর্ড রুমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের চুক্তি সই হয়েছে।

চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মোহাম্মদ ফয়জুল হক সই করেন।

এ সময় বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, সিস্টেমস অ্যানালিস্ট আকরাম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর যুগে সাইবার সিকিউরিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইন্টারনেট ভিত্তিক সেবা, অনলাইন লেনদেন এবং তথ্য সংরক্ষণের ওপর নির্ভরতা যত বাড়ছে, ততই সাইবার ঝুঁকি ও সাইবার আক্রমণের সম্ভাবনাও বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম, ডিজিটাল গেট পাস সিস্টেম, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমসহ ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সেবা চালু করেছে। ফলে কাজের গতি বেড়েছে ব্যাপকহারে।

তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর এ সেবা কার্যক্রম নিরাপদ রাখতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

জাপান সরকারের হাইড্রোগ্রাফি ও ওশানোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ দলের চট্টগ্রাম বন্দর পরির্দশন

জাপান সরকারের হাইড্রোগ্রাফি ও ওশানোগ্রাফির বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে পাঁচদিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বুধবার চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয় বিশেষজ্ঞ দল। চেয়ারম্যান প্রতিনিধিদলকে চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ জাপানের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বন্দর চেয়ারম্যান কর্ণফুলী চ্যানেল ও বর্হিচ্যানেলের নাব্যতা রক্ষার্থে হাইড্রোগ্রাফি বিষয়ে করণীয়, চ্যানেলের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রতিনিধি দলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। বন্দর চ্যানেলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবগত করেন এবং চ্যানেলের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রতিনিধিদলের সার্বিক পরার্মশ ও সহযোগীতা কামনা করেন। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক হ্যান্ডলিং রেকর্ড, জাহাজের টার্ন এরাউন্ড টাইম হ্রাস, ডুয়েল টাইম হ্রাস, পরিচালনাগত সক্ষমতা ও দক্ষতা, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ডিজিটাইজেশন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি প্রভৃতি বিষয়ে প্রতিনিধি দলকে অবগত করলে তারা বন্দরের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিনে পরির্দশন করেন এবং বন্দরের সার্বিক অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বিনিয়োগ আকর্ষণে দক্ষতা ও সমন্বয়ই সবচেয়ে বড় শক্তি : বিডা চেয়ারম্যান

বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কেবল নীতিগত সুবিধা নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা, দ্রুততা ও সমন্বিত ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ একটি ধারাবাহিক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া, যেখানে বাংলাদেশকে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

মঙ্গলবার বিডার মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী আায়োজিত এক লার্নিং সেশনে সভাপতির বক্তব্যে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান এ সব কথা বলেন।

বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আরও কার্যকরভাবে আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)- এর উদ্যোগে ‘এফডিআই এন্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন কম্পিটেনসিস’ শীর্ষক এই লার্নিং সেশন আয়োজন করা হয়।

লার্নিং সেশনে বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ), মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (মিডা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করে।

কর্মশালায় বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রস্তাবের ওপর কেস স্টাডি উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং বিনিয়োগবান্ধব সমাধান প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

লার্নিং সেশনে বিডার হেড অব বিজনেস নাহিয়ান রহমান রোচি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের কৌশল, তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন ও কার্যকর যোগাযোগের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটি একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা, যেখানে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা অপরিহার্য। বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশকে দ্রুত, স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে পারলেই আমরা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারব।’

তিনি আরও জানান, বিনিয়োগ সংক্রান্ত যোগাযোগ আরও কার্যকর করতে বিডা, বেজা, মিডা ও পিপিপিএর কর্মকর্তাদের জন্য নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় আগামী ২৬ জানুয়ারি একটি চীনা ভাষা কোর্স চালু করা হবে। এর মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি ও সহজ যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সির (আইপিএ) কর্মকর্তাদেরও এই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লার্নিং সেশনে আরও বক্তব্য রাখেন লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিজন ইসলাম এবং ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন। তারা বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবণতা, বাংলাদেশের সম্ভাবনা এবং আর্থিক খাতের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

এই লার্নিং সেশনকে বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে ২.৫৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এডিবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ২.৫৭ বিলিয়ন ডলার নতুন সার্বভৌম অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১.১৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

২০২৫ সালের কর্মসূচিতে জ্বালানি, পরিবহন, ব্যাংকিং সংস্কার, নগর পরিসেবা, জলবায়ু সহনশীলতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) এবং কক্সবাজারে জীবিকা ও পরিসেবার উন্নয়নে অগ্রাধিকারমূলক বিনিয়োগে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছরের সার্বভৌম ঋণ পোর্টফোলিও বিভিন্ন খাত ও অর্থায়ন পদ্ধতির মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ প্রতিফলিত করেছে।

এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর পর্বে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলোতে সহায়তায় আমরা গর্বের সঙ্গে আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জিং প্রেক্ষাপটের কারণে এ ধরনের সহায়তা আরো জটিল হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের প্রতিশ্রুতিগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, উন্নত অবকাঠামো ও সেবা এবং মানব উন্নয়নে আমাদের যৌথ মনোযোগকে প্রতিফলিত করে, যা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।

২০২৫ সালে এডিবির সার্বভৌম প্রতিশ্রুতিগুলো অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে জোর দিয়েছে। মোট ২.৫৭ বিলিয়ন ডলারের দশটি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ পরিবহন অবকাঠামো খাতে, ২৩ শতাংশ আর্থিক খাতে এবং ১৬ শতাংশ সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনে বরাদ্দ রাখা হয়।

এছাড়া জ্বালানি খাতে ১১ শতাংশ, পানি ও নগর উন্নয়নে ৯ শতাংশ এবং মানব ও সামাজিক উন্নয়নে ৬ শতাংশ অর্থায়ন করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬৮৮ মিলিয়ন ডলারের দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা-চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল লাইনের উন্নয়ন হবে এবং ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন পরিসেবার জন্য একটি বাইপাস নির্মাণ করবে।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য হলো- ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীলকরণ ও সংস্কার কর্মসূচি (উপ-কর্মসূচি ১), যা রেগুলেশন, কর্পোরেট শাসন, সম্পদের গুণগত মান এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে এবং ৪০০ মিলিয়ন ডলারের জলবায়ু-সহনশীল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি (উপ-কর্মসূচি ২), যা জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতে নির্গমন হ্রাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি প্রচারের জন্য পরিকল্পিত।

এডিবি জানিয়েছে, উন্নত প্রকল্প প্রস্তুতি ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার কারণে ২০২৫ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি এসেছে। পাশাপাশি সার্বভৌম নয় এমন অর্থায়নের মাধ্যমে বস্ত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, ক্ষুদ্রঋণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এডিবি ৭২০ মিলিয়ন ডলার সহ-অর্থায়ন সংগ্রহে সহায়তা করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নীতিগত সহায়তা দিয়েছে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে এডিবির সার্বভৌম ও সার্বভৌম নয়—দুই ধরনের ঋণ প্রতিশ্রুতির মোট পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৪২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশে এডিবির ৪৮টি সক্রিয় সার্বভৌম প্রকল্প রয়েছে, যার মোট মূল্য ১০.৮ বিলিয়ন ডলার।

২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে এডিবি জানায়, অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়ন, বহুমাত্রিক লজিস্টিকস জোরদার, সরকারি ও পুঁজিবাজার সংস্কার এগিয়ে নেওয়া, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করাই হবে তাদের মূল অগ্রাধিকার।

এডিবি একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬৯, যার মধ্যে এশীয় অঞ্চলের সদস্য ৫০।

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে এসওসি চালু করল এনবিআর

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (এসওসি) চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

এনবিআর-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসওসি কর্তৃক জারিকৃত সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা ও কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এএসওয়াইসিইউডিএ অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল তথ্যসম্পদের নিরাপত্তা জোরদার ও ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে এনবিআর-এ এসওসি স্থাপন করা হয়েছে এবং এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

এনবিআর-এর একটি বিশেষায়িত টিম উন্নত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এসওসি পরিচালনা করছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আজ নতুনভাবে স্থাপিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিজস্ব এসওসি-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এসওসি-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমসের সাইবার স্পেসে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সাইবার আক্রমণ, ঝুঁকি, সন্দেহজনক কার্যক্রম এবং অন্যান্য সাইবার হুমকি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ, শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

সংশোধিত এডিপিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে

চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও এই কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সংশোধিত এডিপির খসড়া চূড়ান্ত তৈরি নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। শিগগিরই খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার হতে পারে ২ লাখ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নেওয়া হয়েছিল। এর মানে হলো, এবার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির অর্থের মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হয় ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে।

আর মূল এডিপিতে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে আছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে।

৭ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা অনুষ্ঠানের কথা আছে। এনইসি সভায় সংশোধিত এডিপি পাস হতে পারে। বর্তমান এডিপিতে ১ হাজার ১৭১টি প্রকল্প আছে।

গত বছর সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আকার সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছিল। গতবার ৪৯ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়। গত বছর সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দরে ১৭ হাজার ৩৮৭ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং

মোংলা বন্দরে আমদানি করা গাড়ি। ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলা বন্দরে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬ অর্থবছর) ছয় মাসে ২৮টি কনটেইনার জাহাজসহ রেকর্ড ১৭ হাজার ৩৮৭টি টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।

সমুদ্র বন্দরটিতে গত ছয় মাসে রেকর্ড ৪৪০টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে, যার ফলে এর রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই সময়কালে, মোট ৫ হাজার ২৪৪টি আমদানি করা গাড়ি ১৫টি জাহাজের সঙ্গে নোঙর করা হয়েছিল, যেখানে ৬৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭০টি পণ্য আমদানি করা হয়েছিল এবং ৪২ হাজার ৬৭১টি পণ্য রপ্তানি করা হয়েছিল বন্দর থেকে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) উপ-সচিব মো. মাকরুজ্জামান নিশ্চিত করেন, ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে ৩০ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত, বন্দরটি ২৬টি জাহাজের মাধ্যমে ১ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬১১ টন আমদানিকৃত পণ্য এবং ৮৭ হাজার ৮০০ টন রপ্তানিকৃত পণ্য পরিচালনা করেছে এবং ১১ হাজার ৫৭৯টি রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি করেছে।

১ জুলাই, ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত গত ছয় মাসে ৬৩.৭০ লাখ টনেরও বেশি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১.০৪ কোটি টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমন আকর্ষণের জন্য বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এমপিএ রেকর্ড জাহাজ নোঙর করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নানামুখী চাপের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। ২০২৫ সালে সব প্রধান সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এই এক বছরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং, জাহাজ চলাচল, রাজস্ব আয় এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণ-সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে। বিশেষ করে গত এক বছরে ৩৪ লাখ টিইইউ (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। কনটেইনারে ৪ শতাংশ এবং কার্গো ও জাহাজের ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বন্দর অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। যা বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউ। ২০২৪ সালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউ। কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউ। প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

একই বছরে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্গো (পণ্য) হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন। ২০২৪ সালে হয়েছিল ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার ১৪ টন। বেড়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন। প্রবৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

২০২৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানি পণ্য নিয়ে জেটিতে আসা এবং রপ্তানি পণ্য নিয়ে জেটি ছেড়ে যাওয়া জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে ৪ হাজার ২৭৩টি। ২০২৪ সালে করেছিল ৩ হাজার ৮৫৭টি। জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৪০৬টি, প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। শুধু গত বছর নয়, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এ পরিমাণ কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড আর নেই।

আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন ও ইয়ার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। জাহাজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতির ফলে ২০২৫ সালে প্রায় সময় বন্দরে জাহাজের ‘ওয়েটিং টাইম’ শূন্য ছিল।

কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে বেশকিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে বেসরকারি অপারেটরের পরিবর্তে চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রায় ১১ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এটার প্রভাব সার্বিকভাবে পড়েছে। ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতাও আগের চেয়ে বেড়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে বাল্ক কার্গোর কারণে। সেখানে এক বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশেরও বেশি।

২০২৫ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। এ বছর চট্টগ্রাম বন্দর সরকারকে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েছে। বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে অনলাইন ই-গেট পাস, অনলাইন বিল জেনারেশন ও ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর এক দিনেই সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৬১টি ই-মুট পাস ইস্যু করা হয়।