Home Blog Page 254

পাঁচ বছরে নিলাম থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আয় ২৬৫ কোটি টাকা

চট্টগ্রাম বন্দরে অখালাসকৃত পণ্য নিলামে বিক্রি করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস গত পাঁচ বছরে আয় করেছে ২৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার বেশি। এই পাঁচ বছরে বন্দরে বাজেয়াপ্ত পণ্য নিয়ে নিলাম হয়েছে ৬৪টি। যার মধ্যে ১০ হাজার ১৬০ লট পণ্য ছিল।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে নিলাম হয়েছে নযটি। এ সময় মোট ২ হাজার ৩৮৩ লটের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে আয় হয় ২৬ কোটি ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৫ টাকা। এরপর ২০১৭ সালে ১১টি নিলামে ১ হাজার ৮৮৫ লট পণ্য নিলামে বিক্রি করে আয় হয় ৩৫ কোটি ১৬ লাখ ৫ হাজার ৮৪ টাকা। পরবর্তী বছর ২০১৮ সালে ২০টি নিলামে পণ্য ওঠে ২ হাজার ২৪৫ লটে। ওই বছর আয় হয় ৬৭ কোটি ৮৯ লাখ ২৬ হাজার ৭৯ টাকা। ২০১৯ সালে নিলাম সংখ্যা কম হলেও আয় হয় আগের তুলনায় বেশি। ওই বছর ১১টি নিলামে ১ হাজার ৯৮৫ লটে পণ্য বিক্রি করে আয় হয় ৭০ কোটি ৫৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬ টাকা। সর্বশেষ গত বছর করোনার মধ্যেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ১৩টি নিলাম হয়। সেখানে ১ হাজার ৬৬২ লটের পণ্য বিক্রি করে আয় হয় ৬৫ কোটি ৩০ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৮ টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, ‘নিলামে পণ্য বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় রাজস্ব আয়ও বেশি হচ্ছে। এছাড়া এতে বন্দরের অভ্যন্তরে পড়ে থাকা কনটেইনারে দখলকৃত জায়গা মুক্ত হচ্ছে। এর বাইরে বহু বছর পড়ে থাকা অকশন গোলাটিও খালি হচ্ছে।’

অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বসিয়েছে পাকিস্তান

বাংলাদেশ থেকে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানির ওপর সম্প্রতি অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে পাকিস্তান। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি একথা বলেন। পাকিস্তানের এ ধরনের পদক্ষেপ বাণিজ্য বিকাশে বাধা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সচিবালয়ে ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক উপাদান। ভারত ও পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্পে বাংলাদেশি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের চাহিদা বেশ ভালো। পাকিস্তানের দুটি কোম্পানিও এই রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই পাকিস্তান এই শুল্ক আরোপ করেছে।

উৎপাদনকারী দেশ তার নিজস্ব বাজারের চেয়ে কম দামে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানি করলে সেটাকে বলা হয় ডাম্পিং। তখন আমদানিকারক দেশ ওই পণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারে। তবে এজন্য দেশটিকে নিজস্ব শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ দেখাতে হয়। পাকিস্তানের দাবি, বাংলাদেশ থেকে ডাম্পিংয়ের কারণে সে দেশের কোম্পানিগুলোর মুনাফা, উৎপাদিত পণ্যের দাম ও উৎপাদনশীলতা কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি হয়, তার ৮০ শতাংশের বেশি যায় পাকিস্তান ও ভারতে, যা থেকে বছরে আয় হয় প্রায় ১ কোটি ডলার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী আশাবাদী যে, আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার বিরাজমান যেকোনো সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। সে অনুযায়ী দুই দেশের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠকে এই সমস্যারও সমাধান করা সম্ভব।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বেড়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। সেগুলো দূর করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো বাড়বে। ব্যবসায়ীরা পারস্পরিক দেশ সফর করে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে পারেন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন করে এগিয়ে যেতে চায়।’

মহেশখালীতে বিনিয়োগ করতে চায় মার্কিন কোম্পানি

কক্সবাজারের মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাক ওয়ান ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। সেখানে তেল পরিশোধন করে এশিয়ার বাজারে রপ্তানি করতে চায় তারা। মহেশখালীতে ৫০০ একর জমি চেয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ম্যাক ওয়ান। জমি পেলে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোম্পানিটির ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমির ব্যবস্থা হলে তারা সেখানে প্রতিদিন দুই লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে তা শুধু এশিয়ার বাজারে রপ্তানি করবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে আগামী এপ্রিলে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ দেখিয়েছেন ম্যাক ওয়ান ডেভেলপমেন্টের প্রেসিডেন্ট কেরি ম্যাকেনা।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘ম্যাক ওয়ান কোম্পানি পুরোপুরি রপ্তানিমুখী একটি প্রতিষ্ঠান। তারা যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে, এটাই আমাদের জন্য বেশ ইতিবাচক। তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ দেখানো মানে হলো, বাংলাদেশ নিয়ে তারা চিন্তা করছে। তারা আগামী এপ্রিলে বাংলাদেশে আসতে চায়। বাকি আলোচনা হবে সরাসরি।’ মহেশখালীতে বিনিয়োগ করতে এরই মধ্যে ম্যাক ওয়ান কোম্পানি একটি সমীক্ষাও সম্পন্ন করেছে। জমি পেলে কোম্পানিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করবে। যদি প্রথম পর্যায়ে নেওয়া প্রকল্প সফল হয়, তবে প্রস্তাবিত তেল পরিশোধন প্রকল্পে সাত হাজার দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। বাংলাদেশ থেকেই নেওয়া হবে শ্রমিক। প্রাথমিক যে সমীক্ষা করা হয়েছে, তাতে তেল শোধনাগারের পাশাপাশি একটি জেটিরও প্রয়োজন হবে।

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি কমেছে

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি কমে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘শুল্ক ব্যবস্থাপনা আধুনিক হওয়ায় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করার প্রবণতা এখন কমে এসেছে। তবে শুল্ক পদ্ধতির আরো আধুনিকায়নে বন্দরগুলোতে স্ক্যানার মেশিনের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।’

২৬ জানুয়ারি ঢাকার সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের সেমিনার ও ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) সার্টিফিকেট অব মেরিট প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস নীতি ও আইসিটি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য অধিক নিরাপদ করা ও ব্যবসা সহজীকরণে বন্দরের শুল্ক ব্যবস্থার পুরোপুরি অটোমেশন হওয়া জরুরি। তাহলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কেউ পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ পাবে না। কাগজপত্র যাচাই করাও সহজ হবে।’

অনুষ্ঠানে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া সাত রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মরণোত্তর ডব্লিউসিও সার্টিফিকেট অব মেরিট প্রদান করা হয়। এছাড়া আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিশেষ অবদান রাখায় এনবিআরের ১০ কর্মকর্তা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনকেও (বিএমএ) এই সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু উদ্বোধন শিগ্গিরই

বহুল প্রতীক্ষিত রামগড়-সাবরুম স্থলবন্দর স্থাপনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেনী নদীর ওপর খাগড়াছড়ির রামগড় ও ত্রিপুরার সাবরুম অংশে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ এর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বৈশি^ক মহামারি করোনার কারণে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর গত কয়েক মাস রাত-দিন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা শ্রম দিয়েছেন এর পেছনে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন দু’দেশের জনগণ।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ^াস ভারতীয় হাইকমিশনারকে উদ্ধৃত করে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যৌথভাবে সেতু উদ্বোধনের কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার ঘুরে গেছেন স্থলবন্দর এলাকা। ৬ জানুয়ারি জাইকা প্রতিনিধি দল আসে। তারা মৈত্রী সেতুসহ সড়কে নির্মীয়মাণ সেতু-কালভার্ট পরিদর্শন করে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মৈত্রী সেতুর মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হলে দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসায়, বাণিজ্য পর্যটনের প্রসার এবং মানুষে মানুষে সম্পর্কোন্নয়নে গোটা অঞ্চলের উপকার হবে।

রামগড় পৌরসভার মহামুনি ও সাবরুমের আনন্দপাড়া এলাকায় এই সেতুর অবস্থান। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১১০ কোটি রুপি। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার ইতিমধ্যে স্থলবন্দরকে ঘিরে বন্দর টার্মিনাল, গুদামঘরসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ কাজও চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রামগড় স্থলবন্দর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ২৩তম। এজন্য রামগড়ের মহামুনিতে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চূড়ান্ত হয়েছে। প্রয়োজনে পরে আরো নেওয়া হবে।

করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের আরো ২ প্রণোদনা

করোনা মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন দুইটি প্রণোদনা কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছেন। এর জন্য মোট বরাদ্দ দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা। দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে গতি সঞ্চার, গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অতিদরিদ্র বয়স্ক ও বিধবাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে। ১৭ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন অনুমোদিত প্রথম প্যাকেজটির আকার ১৫০০ কোটি টাকা, যার আওতায় ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাত ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য গৃহীত কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থাকে (বিসিক) ১০০ কোটি টাকা এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনকে ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে এনজিও ফাউন্ডেশনকে ৫০ কোটি টাকা, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে ১০০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।

অনুমোদিত দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের ১৫০টি উপজেলায় দরিদ্র্য সকল বয়স্কদের এবং বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা সকল নারীকে ভাতার আওতায় আনা হবে।

কিছু আমদানিকারক ইচ্ছা করেই পণ্য খালাস করেন না: এনবিআর চেয়ারম্যান

কিছু কিছু আমদানিকারক ইচ্ছা করেই কাস্টমসে পণ্য ফেলে রাখেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২১ উদ্যাপন উপলক্ষে ২৫ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সবাই দ্রুত পণ্যের খালাস চান। আবার এর বিপরীতও আছে। কিছু কিছু আমদানিকারক যত দিন পারেন ফেলে রাখতে পারলে খুশি হন। পণ্যটা তার গোডাউনে জায়গা হবে না বা নিতে চান না। সেজন্য তারা সময়মতো বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করেন না। গাড়ি আমদানিকারকরা ইচ্ছা করেই কাস্টমসে গাড়ি ফেলে রাখেন। কারণ তার স্টোরেজ খরচের চেয়ে ডেমারেজ দেয়া সহজ। তবে সবাই এমন কাজ করেন না।

এনবিআরের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমদানিকারকরা যেন দ্রুত বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করেন এজন্য আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই আমদানিকারককে বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করতে হবে।’

অগ্রাধিকার তালিকায় ধীরাশ্রম কনটেইনার ডিপো

অর্থায়নের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গাজীপুরের ধীরাশ্রমে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি রেলে কনটেইনার এনে রাখা হবে। বন্দরের গতি বাড়াতে যে তিনটি প্রকল্প সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে, তার একটি ধীরাশ্রম আইসিডি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকেই জানানো হয়েছে, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পতে অর্থায়ন করবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, ‘অনেক আগে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও অর্থায়নকারী না পাওয়ায় বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন অর্থায়নকারী পাওয়া গেছে। এডিবি প্রকল্পটিতে অর্থায়নে সম্মত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।’

ধীরাশ্রমে আইসিডি নির্মাণ হলে রাজধানীতে প্রবেশ না করেই কনটেইনার বহনকারী ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এতে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চালু হলে ওই দেশগুলো থেকে আনা কনটেইনার রাখা যাবে এ আইসিডিতে। এছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণের পর ঢাকা-মোংলা রুটে কনটেইনারবাহী ট্রেন পরিচালনা করা যাবে। চট্টগ্রাম বা মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চলে কনটেইনার পরিবহন করতে আর ঢাকায় প্রবেশ করতে হবে না। ধীরাশ্রম আইসিডি-ই হবে দেশের এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার ডিপো। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার এনে রাখা হয় ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে। এটি রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে গুরুত্বপূর্ণ ঘনবসতি ও ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত। প্রধান রেলস্টেশন ও যোগাযোগের কেন্দ্র হওয়ায় এ অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যতে এখানে ‘মাল্টি মোডাল কমিউনিকেশন হাব’ তৈরির পরিকল্পনা আছে সরকারের। এরই মধ্যে দেশের মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের লাইন কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশের কার্যক্রম চলছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এখানে আইসিডির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলে পরিবহনকৃত কনটেইনার রাখার জন্য বিকল্প আইসিডি জরুরি হয়ে পড়েছে। অগ্রাধিকার তালিকায় চলে এসেছে ধীরাশ্রম আইসিডি প্রকল্প।

সমুদ্রপথে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনে নতুন রুট

মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে মাত্র, সেটি চালু হবে ২০২৫ সালে। এর আগেই সমুদ্রবন্দর এলাকার পাশে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে পণ্যবাহী জাহাজ আসা শুরু হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর প্রথম জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্ফ’ নির্মাণসামগ্রী নিয়ে সেই জেটিতে ভিড়ে। এরপর ৬ জানুয়ারি একই জেটিতে ভিড়ে দ্বিতীয় পণ্যবাহী জাহাজ ‘এসপিএম ব্যাংকক’। এই জাহাজটির মাধ্যমে দেশের সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে নতুন একটি রুটের সূচনা হলো।

এসপিএম ব্যাংকক মালয়েশিয়ার ‘পোর্ট কেলাং’ বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে সরাসরি মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে ভিড়ে। সেখানে অর্ধেক পণ্য নামিয়ে ১৩ জানুয়ারি বাকি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পৌঁছায়। এটি এই রুটের কোনো নিয়মিত পণ্যবাহী সার্ভিস নয়, জাহাজটি শুধু কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণসামগ্রী নিয়ে আসে। এর মধ্য দিয়ে পোর্ট কেলাং-মাতারবাড়ী-চট্টগ্রাম বন্দর রুটে প্রথম পণ্য পরিবহনের রেকর্ড গড়ল জাহাজটি; একই সঙ্গে এই রুটে পণ্য পরিবহনের নতুন দুয়ার খুলল। অন্যদিকে প্রথম জাহাজটি ইন্দোনেশিয়ার সিলেগন থেকে এসে মাতারবাড়ীতে পণ্য নামিয়ে ওখান থেকেই ফিরে যায়।

এসপিএম ব্যাংককে ছয় আমদানিকারকের পণ্য ছিল। জাহাজটির শিপিং এজেন্ট এনসিয়েন্ট স্টিম শিপিংয়ের পরিচালক (অপারেশন্স) মোহাম্মদ মোরশেদ হারুন বলেন, ‘এটা অবশ্যই আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হওয়ার আগেই আমরা বিদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের বিরাট সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।’

মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে তৃতীয় জাহাজ আসে ১৮ জানুয়ারি। গ্র্যান্ড তাজিমা ওয়ান নামের এই জাহাজটিও প্রথমটির মতো ইন্দোনেশিয়ার সিলেগন থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণসামগ্রী নিয়ে আসে।

ছবিতে সংবাদ – ফেব্রুয়ারী

৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের নবাগত চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহানকে বরণ ও বিদায়ী চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদকে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফটোসেশন।

চট্টগ্রাম বন্দরের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান এর কাছে ৩১ জানুয়ারি দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন বিদায়ী চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ। এ সময় পর্ষদ সদস্যবৃন্দ, পরিচালক (প্রশাসন) ও বন্দর সচিব উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সম্মেলন কক্ষে ১৮ জানুয়ারি কর্ণফুলী চ্যানেলে অবৈধ বাল্কহেড চলাচল বন্ধের বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্র্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর আবু জাফর মো. জালাল উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. বংশীধর মিশ্রা ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তফা ওসমান তুরান ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় বন্দর সচিব ওমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন।