Home Blog Page 262

অস্ট্রেলীয় অফশোরে কার্বন ধারণের প্রকল্প

অস্ট্রেলিয়ার অফশোরে কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ ও মজুদে দেশটির তেল ও গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলো গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে। ‘ডিপসি স্টোর প্রজেক্ট’ নামের এ প্রকল্পে অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শিল্প উৎস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড তরল আকারে ধারণ করে সেখান থেকে দেশটির অফশোরে একটি ভাসমান স্টোরেজ অ্যান্ড ইনজেকশন (এফএসআই) হাবে স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় এফএসআই হাবেব কাছাকাছি মাটির নিচে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড ইনজেকশন কূপও নির্মাণ হবে।

ডিপসি স্টোর প্রজেক্টের উদ্দেশ্য-অস্ট্রেলীয় সরকারের লো এমিশনস টেকনোলজি স্টেটমেন্টের সঙ্গে সঙ্গতি বজায় রাখা। সরকারের ওই স্টেটমেন্টে কার্বন ধারণ ও মজুদ ব্যবস্থা পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক প্রযুক্তির একটি।

প্রথমবারের মতো চীনে বিলেট রপ্তানি করতে যাচ্ছে জিপিএইচ

একসময় রড তৈরির মধ্যবর্তী কাঁচামাল ‘বিলেট’ আমদানি হতো। বছর দুয়েক আগে দেশীয় কারখানাগুলো বিলেট উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়েছে। এখন আর আমদানি করতে হচ্ছে না। স্বনির্ভরতা অর্জনের পরই এবার বড় চালানের বিলেট রপ্তানিতে নাম লেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ইস্পাত উৎপাদনে বিশে^ শীর্ষ স্থানে থাকা চীনে এই বিলেট রপ্তানি করবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জিপিএইচ ইস্পাত। চট্টগ্রামের সীতাকু-ের কুমিরায় অবস্থিত জিপিএইচ সম্প্রতি তাদের কারখানার উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে। সম্প্রসারিত কারখানায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর পরপরই আগামী মাসের শুরুতে প্রথমবারের মতো কোম্পানিটি চীনে বিলেট রপ্তানি করতে যাচ্ছে।

চীনের প্রতিষ্ঠানটির সাথে ২৫ হাজার টন বিলেট রপ্তানির চুক্তি হয়েছে। রপ্তানি মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ থেকে এক সাথে এত বড় চালান কখনো রপ্তানি হয়নি। বাংলাদেশ থেকে প্রথম বিলেট রপ্তানি করেছিল জিপিএইচ ইস্পাত, সেটি ২০০৮ সালে। সেই সময় শ্রীলংকায় আড়াই হাজার টনের ছোট চালান রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ভারতের সাতটি রাজ্যেও অনিয়মিতভাবে দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে রড ও বিলেট রপ্তানি করেছে। 

রপ্তানিকারকদের জন্য সুখবর: কমেছে ইডিএফ সুদের হার

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুদের হার আবারো কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে এই তহবিলের ঋণে ২ শতাংশ সুদ দিতে হতো, এখন তা কমিয়ে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন ঋণেই শুধু এ সুদহার কার্যকর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২৮ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনে সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে পুরনো ঋণে সুদ আগের মতোই থাকবে। এই তহবিল থেকে সাধারণত পোশাক খাত, চামড়াজাত ও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিকারকেরা ঋণ নিয়ে থাকেন। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতেও এই তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া যায়।

করোনাভাইরাসের কারণে গত এপ্রিলে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার ৩৫০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ডলার করা হয়। সেই সাথে সুদের হার কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছিল। এছাড়া বিজিএমইএ ও বিটিএমএর সদস্য প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা বাড়িয়ে আড়াই কোটি থেকে তিন কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি রপ্তানি মূল্য প্রত্যাবাসনের সময় ১৮০ দিন থেকে বাড়িয়ে বস্ত্র খাতের জন্য ২১০ দিন করা হয়েছিল।

রপ্তানিকারকদের সহায়তা দিতে ১৯৮৯ সালে রিজার্ভের অর্থ দিয়ে ইডিএফ চালু করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমলেও অন্যদের তুলনায় ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ভারত ও মেক্সিকোর কমেছে এক-তৃতীয়াংশ। ইন্দোনেশিয়ার কমেছে ২১ শতাংশের কাছাকাছি। সেই হিসাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাস জানুয়ারি থেকে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে শুধু ভিয়েতনাম, দেশটির রপ্তানি কমেছে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা গত মার্চ থেকে পোশাক আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে সকল দেশেরই ব্যবসা কমেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাজারটিতে বিভিন্ন দেশের ৪ হাজার ৩৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ২৯ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছর ৫ হাজার ৭২৯ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট সময়ে বাজারটিতে যে পরিমাণ পোশাক রপ্তানি হয়েছে, তার ৫৭ শতাংশ করেছে চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও মেক্সিকো।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ৫৯৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। চলতি বছরের প্রথম মাসে ৬২ কোটি ডলারের রপ্তানির বিপরীতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৭ শতাংশ। পরের মাসেও প্রবৃদ্ধি হয় ১১ শতাংশ। মার্চ ও এপ্রিলেও রপ্তানি নেতিবাচক হয়নি। করোনার প্রভাব পড়ে মূলত মে মাসে। সেই মাসে রপ্তানি এক ধাক্কায় ১২ শতাংশ কমে। আট মাসে মোট ৩৪৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। বর্তমানে বাজারটিতে বাংলাদেশের হিস্যা ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা গত বছরের শেষে ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

বেজার ওয়ান স্টপ সেন্টারে যুক্ত হলো ১১ সেবা

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বা বেজার এক দরজায় সেবায় (ওএসএস) নতুন আরো ১১টি অনলাইন পরিষেবা যুক্ত হয়েছে। ২২ অক্টোবর রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে নতুন এসব পরিষেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস। নতুন যে ১১টি সেবা বেজার ওএসএসে যুক্ত হয়েছে তার মধ্যে ৯টিই পরিবেশ-বিষয়ক। আর এসব সেবার প্রদানকারী সংস্থা পরিবেশ অধিদপ্তর।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এক জায়গা থেকে শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয় সব সুবিধা দিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ পাস করা হয়। এ আইনের মাধ্যমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা হয়। আইনটি পাস হওয়ার পর থেকে শিল্প স্থাপনে বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া প্রয়োজনীয় সেবার মধ্য থেকে ২১টিকে বেজার ওএসএসভুক্ত করা হয়। নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ার ফলে এখন সেবার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২টিতে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘‘২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ কারণে মাথাপিছু আয় ১২ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’’

নতুন সেবা যুক্ত করার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টার এশিয়া গ্রুপ প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের জমি বরাদ্দ চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ৯ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জাদুঘর, ওপেন এয়ার অ্যাম্ফিথিয়েটার, বিনোদন পার্ক, হোটেল, রিসোর্ট ইত্যাদি তৈরি করবে। এতে ছয় হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বঙ্গোপসাগরে মহীসোপান সীমার সংশোধিত তথ্য জাতিসংঘে দিল বাংলাদেশ

বঙ্গোপসাগরে বর্ধিত মহীসোপানে বাংলাদেশের সীমানা-সংক্রান্ত সংশোধিত তথ্য-উপাত্ত জাতিসংঘের কাছে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ। মহীসোপান সীমা-সংক্রান্ত সংশোধিত এসব তথ্য ২২ অক্টোবর জাতিসংঘের সমুদ্র আইন ও সমুদ্র-বিষয়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক দিমিত্রি গংচারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশের উপস্থাপিত সংশোধনীটি যাতে ‘জাতিসংঘের মহীসোপান সীমা-বিষয়ক কমিশন’-এর পরবর্তী অধিবেশনের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন রাবাব ফাতিমা। মহীসোপানের সীমা নির্ধারণ চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশ তার সীমানার সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্র তলদেশের খনিজ সম্পদ আহরণ-ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

এর আগে ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মহীসোপান সীমা-বিষয়ক কমিশনে বঙ্গোপসাগরের মহীসোপান সীমা-সংক্রান্ত মূল তথ্যগুলো জমা দিয়েছিল বাংলাদেশ।

মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্র সীমা নির্ধারণ-বিষয়ক আন্তর্জাতিক মামলায় যথাক্রমে ২০১২ ও ২০১৪ সালের ঐতিহাসিক রায়ে বাংলাদেশ জয়লাভ করে। এতে বঙ্গোপসাগরে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমা নির্ধারণ চূড়ান্ত হয়। আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত এই সাফল্যের বাস্তবায়নের জন্য বঙ্গোপসাগরে মহীসোপান সীমা-সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করা হলো।

নিয়মানুযায়ী জাতিসংঘের মহীসোপান সীমা-বিষয়ক কমিশন বাংলাদেশের দাখিল করা এসব তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি উপকমিটি গঠন করবে। পরবর্তী সময়ে সন্তুষ্টিসাপেক্ষে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মহীসোপান সীমা নির্ধারণে চূড়ান্ত সুপারিশ তুলে ধরবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্র-বিষয়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দল মহীসোপান সীমা সংশোধনী-বিষয়ক এসব দলিল তৈরি করেছে।

এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১.৬ শতাংশ

চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। করোনার কারণে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, প্রবাসী আয়সহ বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তাই এত প্রবৃদ্ধি কমার কথা বলছে এই দাতা সংস্থা। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদিও বাজেট ঘোষণার সময় চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। মূলত করোনায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি স্লথ হওয়ায় এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক আরো বলছে, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে।

বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, করোনায় দেশের নিম্ন আয়ের রোজগার ও আয় কমে যাওয়া এবং প্রবাসী আয় হ্রাসের ফলে ভোগ বা খরচ করার প্রবণতা কমেছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে বন্যায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক আরো বলেছে, করোনার কারণে দিনমজুরসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও উৎপাদন খাতের বেতনভুক্ত কর্মীদের জীবন-জীবিকার ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়েছে। শহরের শ্রমিকরাও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে করোনার সময় ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৬৮ শতাংশ শ্রমিকের জীবিকার ওপর আঘাত এসেছে।

অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে, করোনার কারণে কর খাতের সংস্কার বিলম্বিত হলে কিংবা বড় প্রকল্পগুলোর খরচ বাড়লে আর্থিক খাতের ঝুঁকি আরো বেড়ে যেতে পারে। ঘাটতি বাজেট মোকাবিলায় ব্যাংক খাত থেকে অর্থ নেওয়া হলে তা সুদের হারে চাপ সৃষ্টি করবে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া ঠেকিয়ে ঋণের ঝুঁকি কমাতে ফলপ্রসূ আলোচনা দরকার। বহির্বাণিজ্য খাতেও চাপ বাড়বে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বহির্নোঙরে অপেক্ষা ছাড়াই জাহাজ ভিড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম বন্দরে সেবার মান বেড়েছে। চার মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে সেবার মান। জাহাজ বহির্নোঙরে আসামাত্রই ভিড়ে যাচ্ছে পণ্য খালাসের কাজে। ফলে গত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে কম সময়ে পণ্য হাতে পাচ্ছেন আমদানিকারকেরা। এতে কারখানায় দ্রুত কাঁচামাল চলে যাচ্ছে এবং পণ্যও বাজারজাত হচ্ছে।

বন্দর সুবিধা বাড়লে দেশের উৎপাদনমুখী সকল শিল্প-কারখানা সুফল পায়। কারণ, সিমেন্ট ও ইস্পাত ছাড়া কমবেশি সকল ধরনের শিল্প-কারখানার কাঁচামাল আমদানি হয় কনটেইনারে। রপ্তানি পণ্যেরও পুরোটাই যায় কার্যত কনটেইনারে। আর কনটেইনার পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে শীর্ষে হলো পোশাক শিল্প খাত। ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর দ্রুত পোশাক রপ্তানি করা যাবে কিনা, তা অনেকাংশে নির্ভর করে বন্দরের সুযোগ-সুবিধার ওপর।

জাহাজ আসার পর কত দ্রুত জেটিতে ভিড়তে পারছে, সেটি হলো চট্টগ্রাম বন্দরের সেবার মানের সবচেয়ে বড় সূচক। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) নির্দেশিকা অনুযায়ী, বন্দরের জলসীমায় জাহাজ আসার পর থেকে জেটিতে ভেড়ানো পর্যন্ত সময়কে ‘অপেক্ষমাণ সময়’ হিসেবে ধরা হয়।

অপেক্ষমাণ সময় পেরিয়ে জেটিতে ভেড়ানোর পরই জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানো হয়। এরপর শুল্ক-করসহ সব প্রক্রিয়া শেষ করে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস নিতে পারেন। পোশাকশিল্পের কাঁচামালের মতো জরুরি পণ্য জাহাজ থেকে নামানোর পর সিংহ ভাগই কয়েক দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করে খালাস করে নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরে বন্দরের জলসীমায় আসার পর থেকে জেটিতে ভেড়ানো পর্যন্ত প্রতিটি জাহাজের সময় লেগেছে ১৮ ঘণ্টা। বন্দরে জোয়ারের সময় জাহাজ ভেড়ানো হয়। তাতে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা স্বাভাবিক সময় হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। অথচ গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রতিটি জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় ছিল পাঁচ দিন ছয় ঘণ্টা।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‘বন্দরের দক্ষতা বেড়েছে। মহামারির পুরো সময়ে সেবার মানের উন্নতি ধরে রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর সামনে আমদানির চাপ বাড়লেও সমস্যা হবে না।’’

কর্ণফুলী রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের লাইফ লাইনখ্যাত কর্ণফুলী নদীকে দূষণ ও দখলের হাত থেকে রক্ষা করে তার নান্দনিক রূপ ফিরিয়ে এনে অর্থনীতিতে আরো বেশি অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী। ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে কর্ণফুলী নদীর দূষণ রোধ, নাব্যতা বৃদ্ধি ও অবৈধ দখল রোধকল্পে কর্ণফুলী নদীসংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম বন্দর অধিশাখার কর্মকর্তারা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদফতর ও বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধি অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ সংস্থার কর্ণফুলী নদীসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের সুফল সম্পর্কে সভায় অবহিত করেন। কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা মূল চ্যানেলে বাড়লেও খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং দূষণ ও অবৈধ দখল বেড়ে যাওয়ায় নৌ সচিব উদ্বেগ জানান। এ সময় তিনি প্রতিটি সংস্থাকে তাদের প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নদীর দূষণ রোধ এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধের জন্য সমন্বিতভাবে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর দূষণ রোধ, নাব্যতা বৃদ্ধি ও অবৈধ দখল রোধকল্পে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংস্থাগুলোকে আরো উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

নিম্ন মাত্রার সালফারয্ক্তু ফুয়েলে সারচার্জ বসাল ওয়ান

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন এমিশন কন্ট্রোল এরিয়ায় (ইসিএ) নিম্ন সালফারযুক্ত জ্বালানিতে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করবে ওশান নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেস (ওএনই বা ওয়ান)। সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে সৃষ্ট দূষণের হার কমাতে বন্দর এবং উপকূলকে ইসিএ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে কোরিয়ার নৌপরিবহন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়। এসব এলাকায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সালফারবাহী জ্বালানি ব্যবহার এবং ধীরে জাহাজ চালানো বাধ্যতামূলক করা হয়, ফলে জাহাজ অপারেশন খরচ বেড়েছে। এ কারণে কোরিয়ামুখী সকল আমদানি-রপ্তানি পণ্যে প্রতি টিইইউ ৩ ডলার করে সালফার জ্বালানি সারচার্জ বসিয়েছে ওয়ান।