Home Blog Page 3

ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

চলতি মাসের ২৯ দিনে দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা ডলারসংকট কাটাতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে ডলার কেনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল, আর ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমেছিল ২৬ বিলিয়ন ডলারে।

চলতি মাসের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২৯ দিনে দেশে এসেছে ৩০৪ কোটি ডলার।

গত বছরের আগস্টে সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। তাতে গত মার্চে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড হয়। ওই মাসে ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল, যা এখন পর্যন্ত একক কোনো মাসে দেশে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এরপর চলতি মাসে প্রবাসী আয় আবারও ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। তার আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম নিয়ে এমভি এভিটা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৬ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি এভিটা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে এসে পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আলোকে নগদ ক্রয় চুক্তি নম্বর জি টু জি-২ এর অধীনে এই গম আমদানি করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সরকার টু সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করছে।

জি টু জি-২ চুক্তির আওতায় মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে, যার প্রথম চালানে ৫৬ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন গম এই চালানের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে।

৫৬ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন গমের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৩৪ মেট্রিক টন চট্টগ্রামে এবং অবশিষ্ট ২২ হাজার ৭৫৬ মেট্রিক টন মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।

উল্লেখ, জি টু জি-১ চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি হয়েছে।
জাহাজে রক্ষিত গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

গমের নমুনা পরীক্ষা শেষে দ্রুত গম খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সব স্থলবন্দরের বাড়তি মাশুল ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর

দেশের সব স্থলবন্দরের সেবা মাশুলের হার ৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিটি সেবার বিপরীতে কর, টোল, মাশুলের পরিমাণ আগের চেয়ে এই হারে বেড়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন এই মাশুল কার্যকর করা হবে। এ নিয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অন্য স্থলবন্দরের তুলনায় বেনাপোল স্থলবন্দরে মাশুল কিছুটা বেশি। তাই বেনাপোল বন্দরের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরে ২৭ ধরনের সেবার বিপরীতে মাশুল আদায় করা হয়। যেসব যাত্রী বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহার করবেন, তাঁদের জন্য ২০২৫ সালে মাশুলের পরিমাণ ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা। ২০২৬ সালের জন্য বাড়িয়ে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা করা হয়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা বাস, ট্রাক ও লরি প্রবেশ করলে এখন ১৮৪ টাকা ৭০ পয়সা দিতে হবে। আগে এর পরিমাণ ছিল ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা। মোটর কার, জিপ, পিকআপ, থ্রি-হুইলারের জন্য মাশুল ১১০ টাকা ৮২ পয়সা। মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলের জন্য নতুন মাশুল ৩৬ টাকা ৯৫ পয়সা।

বেনাপোল স্থলবন্দরে ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহারের মাশুল ট্রাক, লরিতে দিতে হবে ৮৮ টাকা ৬৫ পয়সা। অন্যদিকে কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণ মাশুল ১৯৫ টাকা ০৭ পয়সা। কোনো যানবাহন ইয়ার্ডে সারা রাত থাকলে ১১১ টাকা ৪৯ পয়সা। এ ছাড়া গুদামে পণ্য রাখলে তার মাশুল বেড়েছে পণ্য রাখার সময় অনুযায়ী। এভাবে সব ধরনের মাশুলের পরিমাণই বেড়েছে।

বেনাপোল ছাড়া অন্য স্থলবন্দরগুলোতেও মাশুল বেড়েছে ৫ শতাংশ হারে। যেসব যাত্রী বেনাপোল ছাড়া অন্য স্থলবন্দর ব্যবহার করবেন, তাঁদের জন্য ২০২৫ সালে মাশুলের পরিমাণ ছিল ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা। নতুন বছরের জন্য তা বাড়িয়ে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা করা হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ছাড়া অন্য বন্দর দিয়ে আমদানি করা বাস, ট্রাক ও লরির জন্য এখন ১৫৯ টাকা ২২ পয়সা দিতে হবে। আগে এর পরিমাণ ছিল ১৫১ টাকা ৬৪ পয়সা। মোটর কার, জিপের জন্য মাশুল ৯৫ টাকা ৫২ পয়সা। মোটরসাইকেল, স্কুটার, বেবি ট্যাক্সি, থ্রি–হুইলারের জন্য নতুন মাশুল ৪৭ টাকা ৮৩ পয়সা।

এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করলেও পণ্য ভেদে মাশুলের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা আরও ৩ বছর চায় বিইটএমএ

পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বা প্রণোদনা আরও তিন বছর অব্যাহত রাখতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছে বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ।

সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ও অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে চিঠি পাঠিয়ে পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্যমান উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে ২৫০ শতাংশ এবং শ্রমিকের বেতন বেড়েছে ৭০ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ, প্রয়োজনীয় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে মিলগুলো তাদের উৎপাদন ক্ষমতার অধিকাংশ ব্যবহার করতে পারছে না। এ কারণে বস্ত্রকলগুলো লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। সে জন্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা আরও তিন বছর বাড়ানোর জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিটিএমএ সভাপতি আরও লিখেছেন, বিটিএমএর সদস্যসংখ্যা ১ হাজার ৮৬৯। যার মধ্যে স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং মিল আছে। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার।

প্রসঙ্গত, পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনার বর্তমান সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ গত জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানির প্রণোদনার প্রজ্ঞাপন করে। এতে রপ্তানিমুখী বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান দেড় শতাংশের অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা দশমিক ৫০ শতাংশ, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিট, ওভেন ও সোয়েটার) অন্তর্ভুক্ত সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা ৩ শতাংশ এবং নতুন পণ্য বা বাজারে (বস্ত্র খাত) সম্প্রসারণ সহায়তা (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইইউ, ইউকে ব্যতীত) ২ শতাংশ এবং তৈরি পোশাক খাতের বিশেষ নগদ সহায়তা দশমিক ৩০ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে থাইল্যন্ডের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যন্ডের রাষ্ট্রদূত থিটিপর্ন চিরাসাওয়াদির নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

থাই রাষ্ট্রদূত রেনং বন্দর-চট্টগ্রাম বন্দর রুটে জাহাজ চলাচল বিষয়ে ইতোমধ্যে সম্পাদিত বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এফটিএ স্বাক্ষরের বিষয়ে সরকারী উচ্চ পর্যায়ে তিনি আলোচনা শুরু করার অনুরোধ করেন। আগামী এপ্রিলে রেনং বন্দর-চট্টগ্রাম বন্দর রুটে প্রথম শিপমেন্ট চালু হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বন্দর চেয়ারম্যান দুই দেশের মধ্যে কি কি পণ্য আমদানী-রপ্তানী করা যায় তা নিয়ে বাজার যাচাইয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন। এসময় উভয় দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর ট্রেড সম্প্রসারনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিনে পরির্দশন করেন এবং বন্দরের সার্বিক অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে: নৌপরিবহন উপদেষ্টা

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি মঙ্গলবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত ‌‌‌’এস্টাব্লিসমেন্ট অফ গ্লোবাল মেরিটাইম ডিসট্রেস এন্ড সেফটি সিস্টেম এন্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম (ইজিআইএমএনএস)‌’ প্রকল্পের আওতায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে নির্মিত জয়েন্ট মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (জেএমআরসিসি) উদ্বোধনকালে এ কথা জানান। এ সময় তিনি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের সাতটি উপকূলীয় এলাকায় স্থাপিত ৭টি কোস্টাল রেডিও স্টেশন এবং ৭টি লাইটহাউজেরও উদ্বোধন করেন।”

কোস্টাল রেডিও স্টেশন ও লাইটহাউজসমূহ কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়া, চর কুকরি মুকরি, নিঝুম দ্বীপ, দুবলার চর এবং কুয়াকাটায় স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও কোরিয়ান ইকোনমিক ডেভলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (EDCF)-এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।

উদ্বোধনকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ইজিআইএমএনএস প্রকল্পটি বাংলাদেশের নৌ-নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগগ্রস্ত যেকোনো জাহাজ ও নাবিকের উদ্ধার সহায়তায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সামুদ্রিক উদ্ধার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার (আইএমও) সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা পূরণের সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা আন্তর্জাতিক নৌবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি বলেন, ইজিআইএমএনএস প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এখন বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে বিপদগ্রস্ত যেকোনো জাহাজ ও নাবিককে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হবে, যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মেরিটাইম সাফল্য।

তিনি এই প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আন্তর্জাতিক নৌসংস্থার (আইএমও) কনভেনশন ও প্রোটোকল বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে আসছে। ‘সেফটি অব লাইফ অ্যাট সি (SOLAS)’ এবং ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (SAR)’ কনভেনশনের আওতায় এ ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক। আজকের এই উদ্বোধন আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

উল্লেখ্য, ইজিআইএমএনএস প্রকল্পের আওতায় গড়ে ওঠা অবকাঠামো বাংলাদেশের সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌচলাচল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক শিপ সার্ভেয়ার অ্যান্ড এক্সামিনার মোঃ আবুল বাসারসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। কোরিয়ান সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন, কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের বাংলাদেশের প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

৫৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা বিএসসির

সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। গত ৫৪ বছরের মধ্যে গত অর্থবছরেই সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে সংস্থাটি। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংস্থাটির মুনাফা ছিল প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। সে হিসাবে বিএসসির মুনাফা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা বেড়েছে।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বোটক্লাবে বিএসসির ৪৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, শেয়ারধারীদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ২৫ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

এজিএমে বিএসসি জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির পরিচালনা আয় ছিল ৫৯১ কোটি টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আয় করেছে ২০৭ কোটি টাকার বেশি। সেই হিসাবে গত অর্থবছরে সংস্থাটি মোট আয় করেছে প্রায় ৭৯৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে পরিচালনা ব্যয় ছিল প্রায় ২৯০ কোটি টাকা। আর প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১২৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এজিএমে সভাপতিত্ব করেন বিএসসির চেয়ারম্যান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুন্নাহার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিএসসির মোট আয় হয়েছিল ৫৯৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং মোট ব্যয় হয়েছিল ৩১১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। তাতে ওই অর্থবছরে সংস্থাটির কর–পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সংস্থাটির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। আর ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা।

সভায় বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল মালেক বলেন, বর্তমানে পাঁচটি জাহাজ বিএসসির বহরে আছে। এসব জাহাজ বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিকভাবে নিয়োজিত করা হয়েছে। বিএসসি প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুটি জাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিএসসি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ–সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম জাহাজ ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ বাণিজ্যিক কাজে নিয়োজিত হয়েছে। অন্যটি ‘এমভি বাংলার নবযাত্রা’ জানুয়ারিতে বিএসসির বহরে যুক্ত হবে।

রিজার্ভ বেড়ে ৩২.৫৭ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ উঠেছে ২৭ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে আকুর দায় পরিশোধের পর গত নভেম্বর মাসে যা ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। রিজার্ভের এই শক্ত অবস্থান অর্থনীতিতে স্বস্তি দিচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে চলতি অর্থবছর বাজার থেকে ২৮৭ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত অর্থ পাচারে কড়াকড়ির কারণে হুন্ডিপ্রবণতা কমে যাওয়ায় এখন বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৫০৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। প্রবাসী আয়ে গত অর্থবছর প্রায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এভাবে রেমিট্যান্স বাড়ার ফলে দীর্ঘ দিন ধরে ডলারের দর ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। দেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। পরে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির কারণে ধারাবাহিকভাবে কমছিল। সেখান থেকে এখন আবার বাড়ছে।

স্থলবন্দরগুলোতে ডিজিটাল ট্রাক মনিটরিং সিস্টেম চালু করেছে এনবিআর

ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ এবং খালি ট্রাকের ফেরত সংক্রান্ত তথ্য ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘আসিকুডা ওয়ার্ল্ড’ সিস্টেমে ‘ট্রাক মুভমেন্ট’ নামক একটি নতুন সাব-মডিউল চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বৃহস্পতিবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআর জানায়, ভারতীয় প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাকের দেশে প্রবেশ এবং খালি ট্রাকের ফেরত সংক্রান্ত তথ্য এখন থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে এই সাব-মডিউলটির পাইলট কার্যক্রম গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। এর আগে এ ধরনের কার্যক্রম ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো।

নতুন মডিউল চালুর ফলে ভারতীয় ট্রাকের আগমন ও বহির্গমনের প্রকৃত তথ্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি ট্রাকের অবস্থানকাল নির্ণয়, রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং তাৎক্ষণিক রিপোর্ট প্রণয়ন সহজ হবে। এতে তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব হানি রোধেও উল্লেখযোগ্য সহায়তা মিলবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

এনবিআর-এর মতে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কাস্টমস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, একইসঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, খুব শিগগিরই দেশের সব স্থল বন্দরে ‘ট্রাক মুভমেন্ট’ সাব-মডিউলের লাইভ অপারেশন শুরু করা হবে।

মাতারবাড়ী ও চট্টগ্রাম বন্দর পরির্দশন করেছেন বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

মাতারবাড়ী ও চট্টগ্রাম বন্দর পরির্দশন করেছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন । ১৭ ডিসেম্বর (বুধবার) সফরের শুরুতে সকালে নৌপথে তিনি চট্টগ্রাম থেকে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে যান। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, মিডার সদস্যগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সাথে ছিলেন ।

আশিক চৌধুরী মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, ডকইয়ার্ড পোর্ট এক্সেস রোড এলিভেটেড অংশসহ বিভিন্ন প্রকল্প পরির্দশন করেন । পরির্দশন শেষে প্রকল্পসমূহের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে প্রকল্প পরিচালক, এমডি সিপিজিসিবিএল, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন ।

মাতারবাড়ী পরির্দশন শেষে বিকালে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিনে পরির্দশন করেন। পরে তিনি বন্দরের বোর্ডরুমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান সমস্যা ও তা নিরসনকল্পে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয় । এ ছাড়া সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরুপ চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, (জি), বিএসপি, পিএসসি, বিএন কে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রশংসাপত্র তুলে দেন আশিক চৌধুরী। আশিক চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে এ প্রশংসাপত্র তুলে দেন।