Home Blog Page 4

চট্টগ্রাম বন্দরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। ১৬ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে ১২ টা ১ মিনিটে বন্দরের জলসীমায় অবস্থান করা সকল জাহাজ ও অন্যান্য জলযানে ১ মিনিট হুইসেল বাজানোর মধ্য দিয়ে দিবসের শুরু হয়। সকালে সূর্যোদয়ের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল দপ্তর, ভবন, আবাসিক ভবন, চ্যানেলে অবস্থান করা জলযান , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও সংসদসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি রিপাবলিক ক্লাবের সামনে স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অভিবাদন গ্রহণ এবং পুস্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান । এসময় বন্দরের সকল পর্ষদ সদস্য, সকল বিভাগীয় প্রধান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বন্দর থানা কমান্ডের নেতৃবৃন্দ, বন্দরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। পরে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।  

দিবসটি উপলক্ষ্যে বন্দরের আওতাধীন সকল মসজিদ, এবাদতখানা, মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয় এবং বন্দর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়াও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত আলোকসজ্জা এবং ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা দিয়ে বন্দর ভবন ও আশপাশের এলাকা সজ্জ্বিত করা হয়। বন্দরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজয় দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন

চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস পরিদর্শক দল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তায় ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি (আইএসপিএস) কোড বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের বাস্তবায়ন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়ন করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২১–২২ জানুয়ারি ইউএস কোস্টগার্ডের আইপিএস দল দুই দিনব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। এরপর ইউএস কোস্টগার্ড আইপিএস প্রেরিত পরিদর্শন রিপোর্টে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ (জিরো অবজারভেশন) দেয়নি।

সাধারণত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে পরিদর্শক দল প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিদর্শন প্রতিবেদনে কোনো পর্যবেক্ষণ উল্লেখ না করায় (জিরো অবজারবেশন) প্রমাণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ আইএসপিএস কোড যথাযথভাবে কার্যকর করেছে। যা বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অর্জন।

আইএসপিএস কোড হলো ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) প্রণীত একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো, যার মূল উদ্দেশ্য হলো জাহাজ ও বন্দর স্থাপনাগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। এ কোড বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দর ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্দরের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা সুদৃঢ় করে।

পরিদর্শনকালে ইউএস কোস্টগার্ড আইপিএস প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নের অবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বন্দর এলাকায় গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পেশাদার জনবল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করা হয়।

পরিদর্শন প্রতিবেদন ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের সফল ও কার্যকর বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মান ও সক্ষমতা আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দর ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, সিসিটিভি নজরদারি, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী এবং আইএসপিএস মনিটরিং সেলের কার্যকর ভূমিকা এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই নিরাপত্তা-মান বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও যুগোপযোগী করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দরের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে সব স্টেকহোল্ডার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখা ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যন্ডসের রাষ্ট্রদূত জুরিস ভান বোমেল এবং ননরেসিডেন্স ডিফেন্স অ্যাটাচে ক্যাপ্টেন (এন) জিওরডাই ক্লেইন ১গ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জাহাজের গড় অবস্থান কমানোসহ বিভিন্ন সূচকে বন্দরের সমপ্রতিক সাফল্যের বিষয়ে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। আলোচনায় নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত মেরিটাইম সেক্টরে বিশেষ করে পোর্ট ডেভেলপমেন্ট, শিপ বিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ডিফেন্স অ্যাটাচে বাংলাদেশের মেরিটাইম আ্যফেয়ারস সংক্রান্ত ব্যাপারে তার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রদূত বোমেল কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষিখাতসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সদস্য (হারবার ও মেরিন) চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে নেদারল্যান্ডের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং বন্দরের সার্বিক অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বিডার অনুমতি ছাড়া বাকিতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ

এখন থেকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অনুমোদন ছাড়াই সরাসরি তিন বছরের জন্য বিদেশি ঋণ নিয়ে প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানি করতে পারবেন উদ্যোক্তারা।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন এ নিয়মে শিল্প খাতের আমদানিপ্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিডার বৈদেশিক ঋণ কমিটির এক সভার সিদ্ধান্তের আলোকেই শিল্পবান্ধব এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এত দিন শিল্প উদ্যোক্তারা শুধু নতুন যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ–সুবিধা পেতেন। নতুন নিয়মে জাহাজ, সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের মূলধনি পণ্য তিন বছর মেয়াদে কিস্তিতে আমদানি করা যাবে। বিদেশি সরবরাহকারী বা ব্যাংক থেকে এ ঋণ–সুবিধা নেওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এ সুবিধার ফলে শিল্প উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। দীর্ঘমেয়াদি বাকিতে তাঁরা মূলধনি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানি করতে পারবেন, যা তাঁদের ব্যবসা সহজীকরণে সহায়ক হবে।

প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি

প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, অতি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে একশ্রেণির প্রতারক চক্র ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করে যাচ্ছে এবং ভুয়া মৌখিক পরীক্ষার সিডিউল দিয়ে সাধারণ জনগণকে প্রতারিত করছে, যা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। সম্প্রতি এমন বেশ কিছু প্রচার-প্রচারণা ও ভুয়া বিজ্ঞপ্তি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ হতে এতদসংক্রান্ত বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও এমন ঘটনা বেড়েই চলেছে।

ইতোপূর্বেও একই বিষয়ে সতর্ক করে চলতি বছরের ১২ মে ও ২৪ জুন পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছিল।

বিজ্ঞপিতেত অবগতির জন্য জানানো হয়, বন্দরের ওয়েবসাইট, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ব্যতীত অন্যকোথাও বন্দরের কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়না। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির যোগ্যতানুযায়ী প্রার্থীদের দরখাস্ত দাখিলের পর যাচাই বাছাই শেষে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীগণের পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে বিধিমোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। বন্দরের কোন চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে বা ভুয়া নিয়োগপত্র ইস্যু করে বা পরীক্ষার ভুয়া শিডিউল দিয়ে কেউ অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা করলে তাকে বা তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট সোপর্দ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। এরূপ প্রতারকের মাধ্যমে কেউ অর্থ আদান-প্রদান বা অন্যকোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে চবক তার দায়ভার গ্রহণ করবে না।

চট্টগ্রাম বন্দর ও খুলনা শিপইয়ার্ডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (খুশিলি) কারখানায় তৈরি হাইটেক রাবার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহারের জন্য সরবরাহের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের বোর্ডরুমে এ স্মারক সই হয়।

বন্দরের পক্ষে সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর কাওছার রশিদ এবং খুলনা শিপইয়ার্ডের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর শহিদুল্লাহ আল ফারুক সই করেন।

বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা শিপইয়ার্ড তাদের রাবার কারখানায় উৎপাদিত হাইটেক রাবার আইটেমগুলোর মধ্যে যেগুলো বন্দরের বিভিন্ন বিভাগের অধীনে বিবিধ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত আইন ও বিধির আলোকে সেসব পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহসহ বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

টানা তিন মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। রোববার বিকেল সোয়া চারটায় ভারত থেকে ৩০ টন পেঁয়াজবোঝাই একটি ট্রাক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

হিলি স্থলবন্দরের মেসার্স রকি ট্রেডার্স নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব পেঁয়াজ আমদানি করে। এসব পেঁয়াজ ভারতের উত্তর প্রদেশের ইন্দর এলাকা থেকে আমদানি হয়েছে। এই বন্দর দিয়ে সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ আগস্ট ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল বলে হিলি শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা যায়।

পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রকি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আতিক হাসান বলেন, ভারত থেকে প্রতি টন পেঁয়াজ আমদানিতে ২৫০ মার্কিন ডলারে এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। ভারতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২ রুপিতে কেনা হয়েছে। ওপারে গাড়িভাড়াসহ কেজিপ্রতি ১৮ রুপি খরচ পড়েছে। হিলি স্থলবন্দরের শুল্কায়ন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে বাংলাদেশে পাইকারি ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হবে। ভারত থেকে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ আজ রাতেই রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

গত এক সপ্তাহ থেকে হিলি স্থলবন্দর ও আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি দেশীয় শুকনা পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সদ্য ওঠা পাতা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়।

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে সীমিত আকারে

পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে আগামীকাল রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতিদিন ৫০টি করে আইপি (আমদানি অনুমতি) ইস্যু করা হবে। প্রতিটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আনার অনুমতি দেওয়া হবে।

শনিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ আগস্ট থেকে যেসব আমদানিকারক আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরাই কেবল আবার আবেদন দাখিল করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন। পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাজধানীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। নতুন আগাম পেঁয়াজ এখনো বাজারে আসতে শুরু করেনি। অন্যদিকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি মেলেনি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন গত ৯ নভেম্বর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাজারে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আর অনুমতি দেওয়া হবে না।

নভেম্বরে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ

কনটেইনারবাহী জাহাজ সোঙ্গা চিতা

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। মাসওয়ারি এই বৃদ্ধি দেশের রপ্তানি খাতে স্থিতিশীল গতি বজায় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ২০ হাজার ২৮ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৯ হাজার ৯০৬ মিলিয়ন ডলার।

যদিও নভেম্বর ২০২৫-এর রপ্তানি আয় নভেম্বর ২০২৪-এর তুলনায় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমেছে, মাসওয়ারি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের স্থিতিশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতার প্রমাণ দেয়।

নভেম্বর মাসে এককভাবে সর্বোচ্চ অবদান রেখেছে তৈরি পোশাক খাত, যার আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪১ মিলিয়ন ডলার।

নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, ওষুধ, জাহাজ, চিংড়ি এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। বৈচিত্র্যময় এসব খাত বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

প্রধান রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৪ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।

উদীয়মান ও কৌশলগত কয়েকটি বাজারেও রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে-চীন (২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ), পোল্যান্ড (১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ), সৌদি আরব (১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ) এবং স্পেন (১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ)। যা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বিস্তৃত উপস্থিতির প্রতিফলন।

চিংড়ির রপ্তানি বাড়াতে চান নীতিসহায়তা ব্যবসায়ীরা

নব্বইয়ের দশকে দেশের চিংড়ি খাত রপ্তানি পণ্যের মধ্যে অন্যতম হলেও এখন অনেক পিছিয়ে পড়েছে। রপ্তানিতে এ খাতের পুনরুত্থানে কৃষি খাতের মতো সহায়তা চান চিংড়ি রপ্তানিকারকেরা। এ জন্য তাঁরা বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড়, রপ্তানিতে নগদ সহায়তা, ঋণ পুনঃতফসিলকরণ সুবিধা এবং ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় চিংড়ি খাতের নীতিসহায়তা নিয়ে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে এসব দাবি জানান খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সংলাপটি আয়োজন করে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতি ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. শাহজাহান চৌধুরী।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার। তিনি বলেন, ‘২০০০ সালে বাংলাদেশ এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানির পরিমাণ একই রকম ছিল। কিন্তু গত ২৪ বছরে ভারত ১৪ গুণ, ভিয়েতনাম ৫ গুণ এবং ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি ৩ গুণ বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা একই রয়ে গেছে। ২০২৪ সালে এ খাতে আমাদের রপ্তানি ছিল মাত্র ৩৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।’

চিংড়ির উৎপাদনশীলতা নিয়ে বজলুল হক খন্দকার বলেন, ‘আমাদের দেশে বাগদা চিংড়ির হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন মাত্র দশমিক ৩৩ টন। আর গলদা চিংড়ির ক্ষেত্রে তা দশমিক ৫২ টন। অথচ ভারতে প্রতি হেক্টরে আমাদের চেয়ে ১৪ গুণ বেশি বা ৭ টনের বেশি চিংড়ি উৎপাদিত হয়। ভিয়েতনামে উৎপাদিত হয় সাড়ে ৩ টন।’ বজলুল হক খন্দকার বলেন, কম উৎপাদনশীলতা, উচ্চ সুদহার এবং ঋণ না পাওয়ায় এই খাতের উৎপাদন সক্ষমতার ২০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। ৬০ শতাংশ খামারি উৎপাদন ছেড়ে দিয়েছেন।

মূল প্রবন্ধে এ খাতের জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকার তহবিল এবং প্রক্রিয়াকরণ খাতের জন্য আলাদাভাবে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ঋণ পুনঃতফসিলকরণ সুবিধারও কথা বলা হয়।

কৃষিতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিলে ছাড় দেওয়া হলেও চিংড়িতে দেওয়া হয় না। তাই কৃষি খাতের মতো চিংড়ি চাষেও বিদ্যুৎ বিলে ছাড়ের দাবি জানান হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট তরিকুল ইসলাম জহির। তিনি বলেন, ‘চিংড়ি রপ্তানি ৩ গুণ বাড়াতে আমাদের নীতি সহায়তা দরকার।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ম্যানগ্রোভ বন কেটে চিংড়িঘের করার ও জেলি ব্যবহারের কারণে রপ্তানি কমার অভিযোগ রয়েছে। এখন আবার অতিরিক্ত মাছ আহরণের কারণে সাগরে মাছের মজুত কমেছে। ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত বৈষম্যের শিকার। তাদের শিল্প খাতের মতো বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এক বছর ধরে এটা নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি শিগগিরই বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় পাব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, অর্থায়ন এ খাতের একমাত্র সমস্যা নয়। উৎপাদনশীলতা অনেক কম। তাই টাকা দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। এ খাতকে এগিয়ে নিতে হলে যারা প্রকৃত উদ্যোক্তা, তাদের এগিয়ে আসতে হবে। উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। তাই যেখানে সমস্যা, সেখানে নজর দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এ খাতে অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। ২২-২৩ টাকা খরচ হয় প্রতি ইউনিটে। তাই আমাদের সহায়তা প্রয়োজন।’