Home Blog Page 5

চালুর অপেক্ষায় মোংলার পোর্ট রিসিপশন ফ্যাসিলিটি

চালুর অপেক্ষায় রয়েছে মোংলা পোর্ট উন্নয়ন প্রকল্প পোর্ট রিসিপশন ফ্যাসিলিটি (পিআরএফ)। এ প্রকল্প চালু হলে জাহাজ থেকে তেল সংগ্রহ এবং অপসারণের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নদী ও সামুদ্রিক জীবনচক্র রক্ষা করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এটি রাজশাহী, রংপুর এবং বরিশাল বিভাগের সাথে সড়ক, নদী এবং রেলপথের মাধ্যমে উন্নত সংযোগ প্রদান করছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক জীবনরেখা হিসেবে মোংলা বন্দর খাদ্যশস্য, সিমেন্ট ক্লিংকার, সার, গাড়ি, যন্ত্রপাতি, চাল, গম, কয়লা, জ্বালানি তেল, পাথর, ভুট্টা, তৈলবীজ এবং এলপিজি আমদানি করছে। অন্যদিকে হিমায়িত মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য, মাটি, টাইলস, রেশম বস্ত্র এবং সাধারণ পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

একটি বিশ্বমানের, আধুনিক ও নিরাপদ বন্দর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য, বন্দরের আধুনিকীকরণ এবং পরিচালনা ক্ষমতা বৃদ্ধি, চ্যানেলের নাব্যতা নিশ্চিতকরণ, পণ্য সম্ভার ও কন্টেইনার সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ, আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) সিনিয়র উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান বাসসকে বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দর সকল প্রধান পরিচালন ও আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। ৮.৮৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং-এর বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বন্দরটি ১০.৪১২ মিলিয়ন মেট্রিক টন হ্যান্ডলিং করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ১.৫৩২ মিলিয়ন টন বা ১৭.২৫ শতাংশ বেশি। একই অর্থবছরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০,০০০ টিইইউ। এ সময় বন্দরটি ২১,৪৫৬ টিইইউ হ্যান্ডলিং করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ১,৪৫৬ টিইইউ বা ৭.২৮ শতাংশ অতিক্রম করেছে।

তিনি জানান, মোংলা বন্দর তার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম করেছে। বার্ষিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৩৩৩.৮৭ কোটি টাকার বিপরীতে ৩৪৩.৩০ কোটি টাকা আয় করেছে। যা ৯.৪৬ কোটি টাকা বা ২.৮৩ শতাংশ বেশি। এ বন্দরের নিট মুনাফাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০.৪৬ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বন্দরটি ৬২.১০ কোটি টাকা অর্জন করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৪১.৬৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ২০৩.৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ফলে প্রতি ঘন্টায় ২৪টিরও বেশি কন্টেইনার পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। জেটির সামনে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ফলে নাব্যতা নিশ্চিত হয়েছে। যার ফলে পাঁচটি জেটিতে একই সাথে পাঁচটি জাহাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোংলা বন্দরে ৩৫৬টি পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করেছে। এ থেকে ১৩,৮৫৪ টিইইউ কন্টেইনার পরিচালনা করেছে, ৪,১৩৯টি আমদানিকৃত যানবাহন প্রক্রিয়াজাত করেছে এবং ৪.৪ মিলিয়ন টন আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিচালনা করেছে।

বন্দর কর্মকর্তা মাকরুজ্জামান বলেন, মোংলা বন্দরের পিআরএফ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্প বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলিতে ট্রানজিট পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করার জন্য বিরাট সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ বন্দর ব্যবহার করলে স্থল, জল এবং রেলপথে রাজশাহী, রংপুর এবং বরিশাল বিভাগের পণ্য পরিবহন সহজতর এবং দ্রুততর হবে।

তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বার্ষিক ১৫০ মিলিয়ন টন কার্গো এবং ৩৫০-৪০০ লক্ষ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। এর ফলে বন্দরের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, স্টিভডরিং এবং শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আধুনিক বন্দরের মাধ্যমে ৪ লক্ষ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতি বছর ১৫০ মিলিয়ন টন কার্গো এবং ৪০০ লক্ষ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহীন রহমান বাসসকে বলেন, মোংলা বন্দর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং করা হবে। কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষার জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর মোংলা বন্দর দিয়ে জেটি পর্যন্ত ৯.৫-১০ মিটারের ড্রাফটসহ ১০০টিরও বেশি অতিরিক্ত জাহাজ এবং জেটি থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত ১৩০টি অতিরিক্ত জাহাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নের জন্য কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

ভুটান গেল ট্রানজিট পণ্যের ট্রাক

টানা চার দিন অপেক্ষায় থাকার পর অবশেষে ভুটান গেল ট্রানজিট পণ্যের ট্রাক। থাইল্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আসা ভুটানের পণ্য পরিবহনের প্রথম ‘ট্রায়াল রান’ বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বুড়িমারী স্থলবন্দরে এসে পৌঁছানোর চার দিন পর ভুটানের উদ্দেশ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দর ছেড়ে যায়।

সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ট্রাকটি বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে পৌঁছায়।

দীর্ঘ এক বছর ধরে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আনা-নেওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করায় বন্দরের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব পড়ে। ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য শুরুর ফলে বন্দরে আবার বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ভুটান তাদের ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের প্রথম ‘ট্রায়াল রান’ শুরু করলেও প্রথমেই বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছিল। তবে এতে বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ স্বাক্ষরিত চুক্তি ও প্রটোকলের আওতায় এই পরীক্ষামূলক চালান সফলভাবে ভুটানে পৌঁছানোয় বুড়িমারী স্থলবন্দরে ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দরে শ্রমিকদের লোড-আনলোড, সিএন্ডএফ এজেন্টদের কার্যক্রম, গুদাম ভাড়া-সব মিলিয়ে বন্দরে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার (শুল্ক) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, গত শুক্রবার থেকে তিন দেশের সাপ্তাহিক ছুটি এবং ভুটানের আমদানিকারকদের অনুমোদনের কাগজে বুড়িমারী স্থলবন্দর লেখা থাকলেও ভারতের স্থলবন্দরের নাম উল্লেখ না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়।

বাংলাদেশের সড়ক ও বন্দর ব্যবহার করে ভুটানের আমদানি কার্যক্রম চলমান থাকলে বুড়িমারী স্থলবন্দর ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরে একদিনে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭১৭টি গেটপাস ইস্যু : অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুফল

ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিদিনই নতুন সাফল্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা, ডকুমেন্ট প্রসেসিং ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডিজিটাল অপারেশন এখন বন্দরের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

TOS(Terminal Operating System) অ্যাপ ব্যবহার করে শতভাগ অনলাইনে গেট পাস ইস্যু করার রেকর্ড স্থাপনের পর সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করছে। ২৮ নভেম্বর একদিনে ৬ হাজার ৭১৭টি গেট পাস ইস্যু করা হয়েছে, যার মধ্যে কনসাইনি গেইট পাস ৪ হাজার ৮০৩টি ও অফ-ডক গেইট পাস ১ হাজার ৯১৪টি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে কার্যক্রম আরও আধুনিক, নিয়ন্ত্রিত ও দ্রুতগতির হয়েছে। প্রস্তুতিতে একদিকে যেমন চালকরা আগের হ্যান্ডলিং ও ট্রেড মুভমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যার সুফল ভোগ করছেন সকল স্তরের ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দরের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে, স্মার্ট পোর্ট বাস্তবায়ন এখন বাস্তবচিত্রে রূপ নিয়েছে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার বজায় থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জন হবে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাবে ।

চট্টগ্রাম বন্দরে জেটরো প্রতিনিধি দল

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রতিনিধি দল। তাঁরা বাংলাদেশের বন্দর খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় জেটরো প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

জেটরোর প্রতিনিধি দলে ছিলেন কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ Kazuiki Kataoka, রিপ্রেজেন্টেটিভ Tomotaka Minoura। এ সময় বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক, সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

সদস্য (হারবার ও মেরিন) চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান পরিচালনাগত ক্ষমতা ও দক্ষতা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিভিন্ন দেশের সাথে সরাসরি জাহাজ চলাচল ও জাহাজের ওয়েটিং টাইম ও গড় অবস্থান সময় কমানোসহ বিভিন্ন বিষয় প্রতিনিধিদলকে জানান।

প্রতিনিধিদল বন্দরের সাম্প্রতিক সাফল্য, সরাসরি জাহাজ চলাচল চালু, ওয়েটিং টাইম ও টার্ন এরাউন্ড টাইম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনায় সন্তোষ জানান। এছাড়াও বন্দরের ভবিষ্যৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বন্দরের প্রশংসা করেন।

আলোচনাকালে জাপানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা সরেজমিন দেখার আগ্রহ জানান। সদস্য (হারবার ও মেরিন) এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ট্রানজিটের পণ্য যাচ্ছে ভুটান

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর প্রায় দুই মাস পর ভুটানের ট্রানজিটের চালানটি খালাস হয়েছে। বুধবার রাতে চালানটি খালাস করেন ভুটানের পণ্য খালাসের জন্য নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধি। চালানটি সড়কপথে বুড়িমারী স্থলবন্দরের পথে রয়েছে। সেখান থেকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে চালানটি ভুটানে নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সই হওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য মুভমেন্ট অব ট্রাফিক-ইন-ট্রানজিট’ চুক্তি ও প্রটোকলের আওতায় পরীক্ষামূলক চালানটি নেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ এই চুক্তি ও প্রটোকল সই হয়েছিল। ভুটান স্থলবেস্টিত হওয়ায় দেশটিতে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে বাংলাদেশের মাধ্যমে পণ্য নেওয়ার এই উদ্যোগ।

ভুটানের চালানটি আনা হয়েছে থাইল্যান্ড থেকে। ৬ হাজার ৫৩০ কেজির এই চালানে রয়েছে শ্যাম্পু, শুকনা পাম ফল, আইস টি, চকলেট ও জুস। চালানটির রপ্তানিকারক থাইল্যান্ডের অ্যাবিট ট্রেডিং কোম্পানি। চালানটি আমদানি করেছে ভুটানের অ্যাবিট ট্রেডিং। দুই মাস আগে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালেও সরকারি সংস্থাগুলোর এ–সংক্রান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় এত দিন খালাস করা যায়নি। বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদনের পর বুধবার চালানটি খালাস করা হয়।

জানতে চাইলে ভুটানের পণ্য খালাসের জন্য নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধি এন এম ট্রেডিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল আলম খান বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় কনটেইনার পরিবহনকারী একটি প্রাইম মুভার ট্রেলারে করে এক কনটেইনারের চালানটি সড়কপথে বুড়িমারী স্থলবন্দরের পথে রওনা হয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভুটানে নেওয়া হবে কনটেইনারটি।

বাংলাদেশের মাধ্যমে শুরু হওয়া পরীক্ষামূলক চালান পরিবহনে দেশটি সন্তুষ্ট হলে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু হতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করছে ভুটানের আগ্রহের ওপর।

সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও নিরাপত্তাসহ অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক রূপরেখার প্রস্তাব পাকিস্তানের

সমুদ্র পরিবহনে সহযোগিতার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) সাথে পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং করপোরেশনের (পিএনএসসি) মধ্যে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক রূপরেখার প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদ।

সোমবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেনের সাথে এক বৈঠকে পাকিস্তানের সমুদ্রবিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী এই প্রস্তাব দেন বলে পাকিস্তানের দৈনিক দ্য ডন জানিয়েছে।

জাতিসংঘ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) ৩৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সাখাওয়াত হোসেন এখন লন্ডনে রয়েছেন। সেখানেই পাকিস্তানের মন্ত্রীর সাথে তাঁর বৈঠক হয়।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশকে দেওয়া পাকিস্তানের প্রস্তাবে সমন্বিত অংশীদারত্বের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই অংশীদারত্বে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কনটেইনার এবং বাল্ক শিপিং সেবা, কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নাবিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, পারস্পরিক বন্দর-কল সুবিধা প্রদান এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পৃক্ততা জোরদারের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের মন্ত্রী মুহাম্মদ জুনাইদ আনোয়ার আইএমও এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)–এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমুদ্র পরিবহন-সম্পর্কিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক আঞ্চলিক সামুদ্রিক গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাঠামো তৈরির পাকিস্তানের বৃহত্তর লক্ষ্যের ওপর জোর দেন।

জুনাইদ আনোয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রবাহকে জোরদারের লক্ষ্যে পাকিস্তানের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে কেপিটির (করাচি বন্দর কতৃর্পক্ষ) ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, চলমান আধুনিকীকরণ উদ্যোগ এবং উন্নত টার্নঅ্যারাউন্ড সময় তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, বন্দর থেকে বন্দরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা সরবরাহসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ কমাতে, আঞ্চলিক বাধা দূর করতে এবং দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বাণিজ্যিক একত্রীকরণের নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্যে নেমে এসেছে

সম্প্রতি মায়ের্স্ক শিপিং লাইনের একটি প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর আসেন। বন্দর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বিশেষত জাহাজের অপেক্ষার সময় কমানো এবং এনসিটিসহ বিভিন্ন টার্মিনালের অপারেশনাল পারফরম্যান্সের উন্নতি ও সেবার মানের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে জাহাজের ওয়েটিং টাইম আগের শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বরে ৯ দিন, অক্টোবরে ১৮ দিন এবং নভেম্বরে ১৯ দিন জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য ছিল। বর্তমানে বন্দরে আগত জাহাজ অন অ্যারাইভাল বার্থ পাচ্ছে। এতে আমদানি রপ্তানিকারকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমদানি করা পণ্য ডেলিভারি নিতে পারছেন এবং রপ্তানি পণ্য যথাসময়ে জাহাজীকরণ করতে পারছেন।

মূলত মডার্ন কার্গো কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন, ইয়ার্ড ক্যাপাসিটির সম্প্রসারণ, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোপরি চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম ও বিভিন্ন পর্যায়ের বন্দর ব্যবহারকারীদের অব্যাহত সহযোগিতার কারণে বন্দরের হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি মায়ের্স্ক শিপিং লাইনের একটি প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম আসেন। বন্দর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বিশেষত জাহাজের অপেক্ষার সময় কমানো এবং এনসিটিসহ বিভিন্ন টার্মিনালের অপারেশনাল পারফরম্যান্সের উন্নতি ও সেবার মানের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ জানান।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) ২৮ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪২ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৫০ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন এবং ৩ হাজার ৫৫২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৩২৮ টিইইউএস কনটেইনার, ১ কোটি ২৯ লাখ ৮ হাজার ১৭৪ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৩৫১টি জাহাজ বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১২ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ১২ লাখ ১৩ হাজার ৮০৫ টিইইউএস কনটেইনার, ৪ কোটি ৫২ লাখ ৮২ হাজার ৯০৭ মেট্রিক টন কার্গো এবং ১ হাজার ৪২২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ১১ হাজার ৮৮৮ টিইইউএস কনটেইনার, ৬১ লাখ ৬৬ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন কার্গো এবং ১৪১টি জাহাজ বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড পরিচালিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭১ টিইইউএস কনটেইনার এবং ২৫৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ১৫ দশমিক ৫০ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ হাজার ৯১৯ টিইইউএস কনটেইনার এবং ৪১টি জাহাজ বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ডিজিটালাইজেশনে নতুন মাইলফলক

চট্টগ্রাম বন্দর ডিজিটালাইজেশনে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) অ্যাপের সফল ব্যবহার বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও দক্ষ করেছে। এর ফলে সার্বিক পোর্ট অপারেশনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

১৮ নভেম্বর একদিনে চট্টগ্রাম বন্দরে গেট পাস ইস্যু হয়েছে মোট ৬ হাজার ৩০১টি। এই সংখ্যা একদিনে ইস্যু হওয়া গেট পাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এবং নতুন রেকর্ড। বন্দর কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কারণে দ্রুত কনটেইনার হ্যান্ডলিং, গেট অপারেশন, ডকুমেন্ট প্রসেসিং এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হওয়ায় সেবার মান যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ দুই-ই কমেছে।

পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় মেডলগের সাথে চুক্তি

আগামী ২২ বছর ঢাকার অদূরে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (পিআইসিটি) পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করবে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মেডলগ’।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মেডলগের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান এবং মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম আনিসুল মিল্লাত এ চুক্তিতে সই করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শাখাওয়াত হোসেন, ঢাকায় নিয়োজিত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো র‌্যাগলিসহ বন্দর ও মেডলগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে এপিএম টার্মিনালসের চুক্তি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এপিএম টার্মিনালস বিইভির সাথে লালদিয়া কনটেইনার নির্মাণ ও পরিচালনায় ৩০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এপিএম টার্মিনালস বিইভি ডেনমার্কের এপি মোলার নিয়ন্ত্রিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইন্টিগ্রেটেড লজিস্টিকস কোম্পানি মায়ের্স্কের একটি পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এই চুক্তির মাধ্যমে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল (এলসিটি) ডিজাইন, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সোমবার অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি লিনা গান্ডলোস হ্যানসেন ও ঢাকায় ডেনমার্ক দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পিপিপি অথোরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। নৌপরিবহন সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নৌউপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, এ বিনিয়োগ দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যুব সমাজের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বয়ে আনবে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে, দেশের অনেক তরুণ, বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকরা চাকরির সুযোগ পাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসরকারি সহযোগিতা প্রকল্পটির জাতীয় স্বার্থ নিয়ে যে কোনো সংশয় দূর করবে।

রাষ্ট্রদূত ব্রিক্স মোলার বলেন, বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও শক্তিশালী হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও টেকসই সহযোগিতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করছে।

তিনি বাংলাদেশ ও এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে যুক্ত সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান।

তিনি আরো বলেন, ডেনমার্কের বৈশ্বিক দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে এ বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, এই নির্দিষ্ট প্রকল্পটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক এখন টেকসই প্রবৃদ্ধির শক্তিশালী অংশীদার।

ঐতিহাসিকভাবে, ডেনমার্ক বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল, যা বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

লিনা গান্ডলোস হ্যানসেন বলেন, এ প্রকল্পের সফলতা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অটল নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।

তিনি এমন এক ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরেন, যেখানে বন্দর কেবল অবকাঠামো নয়, বরং মানুষ ও উদ্দেশ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম— যেখানে জাহাজ সহজে নোঙর করে, পণ্য দ্রুত স্থানান্তরিত হয় এবং কর্মীরা আরও নিরাপদ ও স্মার্ট পরিবেশে কাজ করবে।

লিনা জানান, ডেনমার্ক থেকে জাপান এবং কোপেনহেগেন থেকে চট্টগ্রাম— এই অংশীদারত্ব বাণিজ্য একই দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সংযুক্ত হয়েছে।

স্টেট সেক্রেটারি গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়নকে তুলে ধরে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির মধ্যে উঠে আসবে। এছাড়া দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি ইতোমধ্যেই বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং অন্যান্য খাতেও দেশটির বিপুল সম্ভাবনা দৃশ্যমান।

এপিএম টার্মিনালস বিইভি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটর (৩৩টি দেশে ৬০টিরও বেশি টার্মিনাল) এবং বিশ্বব্যাংক ২০২৪ অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ ২০টি সেরা কনটেইনার বন্দরের মধ্যে ১০টি তারা পরিচালনা করে।

বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায় (যেমন- চীন, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া) তাদের বিস্তৃত অভিজ্ঞতার আলোকে লালদিয়া প্রকল্প বাংলাদেশে বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও অপারেশনাল দক্ষতা নিয়ে আসবে— যা দেশের লজিস্টিকস খাতকে এলডিসি-পরবর্তী যুগে ভবিষ্যত-প্রস্তুত করবে।

এই নতুন বন্দর বিদ্যমান ক্ষমতার দ্বিগুণ বড় কনটেইনার জাহাজ গ্রহণ করতে পারবে, প্রতি ইউনিট মালবাহী খরচ কমাবে এবং বিশ্বব্যাপী সরাসরি শিপিং সংযোগ সক্ষম করবে। রাজস্ব-ভাগাভাগি রেয়াত মডেলে নির্মিত এই প্রকল্পে বাংলাদেশ স্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করবে, পাশাপাশি সরকারি মূলধনী ব্যয়ও কমবে।

রেয়াত চুক্তির আওতায়, এপিএম টার্মিনালস বিইভি লালদিয়া, চট্টগ্রামে একটি গ্রিনফিল্ড বন্দর টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) নিয়ে আসবে। এটি হবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এককভাবে সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় ইকুইটি বিনিয়োগ।

এপিএম টার্মিনালসের মতো বৈশ্বিক মানের বিনিয়োগকারী বন্দর খাতে প্রবেশ করায় অন্যান্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা আরও বাড়বে, ফলে লজিস্টিকস, উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অতিরিক্ত বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট হবে।